Skip to content

কবিতা

‎১.
‎একটি ঝরা পাতা ~

‎আজ থেকে  ঠিক সত্তর বছর পরের একদিন
‎ভোর বেলায় আমাজনের গহীনে
‎ঝরে পড়বে একটি শূন্য বিষণ্ন পাতা
‎বড় নয়,ভারি নয়,খুব হালকা এবং ধূসর
‎তখন বনের ভেতর টুপ টুপ করে পড়বে শিশির
‎মর্মর শব্দে জড়ো হবে অনেক অচেনা পাতা
‎কেউ বিষণ্নতার গান গাইবে
‎কেউ অমরতার গল্প বলবে
‎আর কেউ থাকবে ঠিক ঝরা পাতাটির মতো নীরব।

‎এরপর আমাজনের লাল নীল কালো জলে
‎ভাসতে থাকবে অজস্র বছর
‎কয়েকটি ফুল এসে গায়ে লাগবে
‎পাশাপাশি থাকবে একটি চন্দনের ডাল
‎কয়েকটি পিরানহা পিছু ছুটবে
‎তারা বোঝাবে আলো আধারের হিসাব।

‎ভাসতে ভাসতে একদিন আটলান্টিকের বুকে
‎সলিল-সমাধি হবে পাতাটির
‎একটি নীল তিমি এসে পাতার কাছে তার শক্তির মাহাত্ম্য জানান দিবে
‎হাঙর বর্ণনা করবে তার গতি-তত্ত্ব
‎কিন্তু অমরত্বের আনন্দে পাতাটি গাইতে থাকবে অসীমের গান।

‎২.
‎মরে গেলে~

‎মরে গেলে –
‎শুয়ে রব মাটির গর্তে
‎শব্দ ও আলোহীন ঘরে
‎উত্তর দক্ষিণ হয়ে।

‎বুকের ওপর জমবে ঘাস —
‎সবুজ লম্বা ও ধূসর
‎শিথানে কাঠগোলাপ জেগে থাকবে।

‎খালি পায়ে কেউ কেউ —
‎বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে
‎মাঝেমাঝে কয়েকটি ছাগল —
‎বুকের ঘাস খাবে
‎বুকের ওপর হাজারো পিঁপড়ার—
‎মিছিল যাবে।
‎আমি কিছুই বলবনা
‎একদম চুপ করে থাকবো
‎যেন আমি কিছুই দেখছি না!


‎৩.
‎কিছু মানুষ মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে ~

‎কিছু মানুষ মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে।
‎জীবনের প্রতি তাদের সুতীব্র অভিযোগ।
‎তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে শোকগাথা ও মরমী গান।

‎আমি উপত্যকায় বসে বসে ঝরা পাতার গান শুনছি।
‎পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে – শান্ত শীতল মৃদু ঝর্ণা।
‎ঝর্ণার পানিতে ভেসে যাচ্ছে একটি অর্ধ-মৃত পাতা।
‎পাতার ওপর দু’টি পিঁপড়া।
‎তারা জীবনের গান গেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে!

‎নদীর তীরে পাশাপাশি দু’টি বক।
‎তাদের পায়ের সতর্ক পথচল।
‎চোখে ক্ষুধার তীব্র চাহনি।
‎তবু শিকারীর ফাঁদ তারা এড়াতে পারে না!

‎সমুদ্রে টানাজাল টানছে জেলেরা।
‎জাল এখন ঢেউ এর পাশে ভাসছে।
‎চারপাশে মাছ পাহারা দিচ্ছে গাঙচিল!
‎জীবনের শেষ খাবার খেয়ে মাছেরা উঠে আসবে বেলাভূমিতে।

‎বাজারে অপেক্ষা করছে কিছু মানুষ।
‎তাদের চোখে মুখে তৃষ্ণা আর ক্ষুধা।
‎তারা মাছের দাম জানতে চাইবে আর মাছের দিকে এক পলক নিরীহ দৃষ্টিতে চেয়ে পাহাড়ের  দিকে হাঁটতে থাকবে ; জীবনের প্রতি তাদের অগাধ বিতৃষ্ণা!
‎তারা মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে!



‎৪.
‎মা এবং আমি~
‎ 
‎গভীর রাত
‎রাতের বুকে অন্ধকার
‎ঘরভর্তি আর্তনাদ
‎মৃত্যুর সমান ব্যথা নিয়ে
‎মা অপেক্ষা করছে একটি জীবনের জন্য ।

‎চারপাশে কোলাহল
‎এদিক সেদিক ছোটাছুটি
‎কারো মুখে দুরুদ
‎কারো মুখে দোয়া
‎সব অন্ধকার ভেদ করে
‎এক অজানা  চিৎকারে
‎বেরিয়ে এলো একটি জীবন ।

‎পাশে আগুন জ্বলছে
‎মায়ের মুখে স্বর্গীয় হাসি
‎চোখে আবদ্ধ দৃষ্টি।

‎মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান
‎সুবহে সাদিকের আলোয়-
‎প্রতিবেশির আগমনে ভরে উঠছে উঠান।


‎৫.
‎আব্বা~

‎আব্বা,
‎তোমারে উঠানে দেখি না
‎বিছানায় দেখি না
‎খাবারের টেবিলে দেখি না।

‎তোমার আওয়াজ শুনলে ভাল লাগতো
‎কিছু খেতে দেখলে ভাল লাগতো
‎অথবা,
‎একদম নীরবে শুয়ে থাকলে ভাল লাগতো!

‎ভাল লাগতো না কেবল তোমার কষ্টের গোঙানি
‎ক্লান্ত দেহ
‎শুকনো মুখ।

‎আব্বা,
‎আজ কোথাও তোমার কণ্ঠ শুনি না
‎মায়ের গোসল করানোর দৃশ্য দেখি না
‎হাসপাতাল থেকে হেসে হেসে বাড়ি ফেরা দেখি না।

‎কেবল দেখি খালি উঠান
‎শুন্য বিছানা
‎আর হ্যাঙারে টাঙানো তোমার পাঞ্জাবি ।


‎৬.
‎নত হও~

‎সন্ধ্যার আঁধারে
‎কিংবা গভীর রাতে
‎একা
‎একদম একা
‎আকাশের দিকে তাকাও।

‎কথা বল
‎প্রশ্ন কর
‎অভিমান দেখাও
‎অভিযোগ কর
‎চিৎকার কর।

‎এরপর___
‎কণ্ঠ নামাও
‎অশ্রু ঝরাও
‎নত হও
‎এবং নত হও।

‎তারপর___
‎শান্তি
‎শান্তি আসবেই।


‎৭।
‎মাটির কবি~

‎আমি মাটির কবি
‎দেখো, হাতের মুঠোতে লেগে আছে
‎পলিমাটির সৌরভ ।

‎চাষাবাদের সকল ব্যাকরণ আমার জানা
‎লাঙ্গল, জোয়াল কিংবা কাস্তে
‎আমার আদিমতম বিদ্যা।

‎কেন যে নীল নদের চাষাবাদ ভুলে
‎আমাকে শিখাতে চাও নগররাষ্ট্রের কলাকৌশল?
‎এসব সভ্যতার মরীচিকা ভুলে,
‎তুমিও এসো কাদামাটি-জলে।



‎৮.
‎দশটি বছর প্রতীক্ষায় আছি ~

‎- – -তারপর দশটি বছর ক্ষয়ে গেছে পৃথিবীর আয়ু থেকে।
‎সূর্য আপন কক্ষে  প্রদক্ষিণ করতে করতে ক্লান্ত প্রায়।
‎চন্দ্র জ্যোৎস্না ছড়াতে ছড়াতে  অনেকটা নিস্প্রভ!
‎ইতোমধ্যে অনেক কাক ঝুলে গেছে বৈদ্যুতিক তারে।
‎আমার মতো অনেক নিশাচর পেঁচা হারিয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।

‎কিন্তু  তোমার জন্যে-
‎আমি এখনো স্থির পৃথিবীর মতো,
‎আমি এখনো অটল হিমালয়ের মতো
‎আমি এখনো প্রতীক্ষমাণ চাতকের মতো।

‎সেইদিন উপত্যকা ধরে পথে যেতে যেতে একটি রেইনট্রি আমার কাছে সবিনয়ে জানতে চাইলো-
‎”আমার চোখে এত জল কেন।”
‎আমি তাকে তোমার গল্প বলতে গিয়ে জানালাম-
‎দশটি বছর ধরে আমার চোখে একটি নদী বয়ে বেড়ানোর কথা!



‎৯.
‎তুমি নেই~

‎তুমি নেই-
‎আছে রিমঝিম বৃষ্টি,
‎কচু পাতার উপর টলমলে এক ফোটা জল,
‎জলে ডুবে থাকা সবুজ  গ্রাম।

‎তুমি নেই-
‎আছে নীল জলের নাফ,
‎জলে ভাসা কদম ফুল,
‎বর্ষার মেঘলা আকাশ।

‎তুমি নেই-
‎আছে কবিতার বই,
‎পুরোনো দিনের গান,
‎দক্ষিণের জানালা।

‎তুমি নেই-
‎আছে শৈশবের বিল,
‎কলা গাছের ভেলা,
‎দুরন্ত সাঁতার।



‎১০.
‎একদিন পাখির মতো উড়ে যাব~

‎জনো, একদিন ঠিক পাখির মতো উড়ে যাবো যেভাবে উড়ে যায় অচেনা পাখি-
‎অচেনা ডাল হতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার পর।
‎যেহেতু আমি কোন বৃক্ষে বাঁধিনি স্থায়ী নীড়,
‎কোন দিন কথা হয়নি দুই ডালে বসে মুখোমুখি।

‎শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে উড়ে আসা পাখির ঝাঁক দেখেছো নিশ্চয়;
‎ওখানে যে পাখিটা ঝাঁক বিচ্যুত একা একা পাখা ঝাঁপটায় সেটাই আমি।

‎আমি একা এবং একক।

‎কারণ, আমাকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়নি,
‎বা আমার জোড়ার আরেক পাখি এখনো সৃষ্টি হয়নি,
‎বা আমার জোড়ার অন্য পাখিটা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে আমার জন্মের পূর্বে!

‎জানো,ঐ আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যখন আমার ভীষণ শীত লাগে, তখন আমি অনেকবার ঝাঁকে ভিড়তে চেয়েছি কিন্তু এত বড় আকাশ থাকতেও- ওরা কেউ আমাকে একটুখানি স্পেস দেয়নি।









‎‎১.
‎একটি ঝরা পাতা ~

‎আজ থেকে  ঠিক সত্তর বছর পরের একদিন
‎ভোর বেলায় আমাজনের গহীনে
‎ঝরে পড়বে একটি শূন্য বিষণ্ন পাতা
‎বড় নয়,ভারি নয়,খুব হালকা এবং ধূসর
‎তখন বনের ভেতর টুপ টুপ করে পড়বে শিশির
‎মর্মর শব্দে জড়ো হবে অনেক অচেনা পাতা
‎কেউ বিষণ্নতার গান গাইবে
‎কেউ অমরতার গল্প বলবে
‎আর কেউ থাকবে ঠিক ঝরা পাতাটির মতো নীরব।

‎এরপর আমাজনের লাল নীল কালো জলে
‎ভাসতে থাকবে অজস্র বছর
‎কয়েকটি ফুল এসে গায়ে লাগবে
‎পাশাপাশি থাকবে একটি চন্দনের ডাল
‎কয়েকটি পিরানহা পিছু ছুটবে
‎তারা বোঝাবে আলো আধারের হিসাব।

‎ভাসতে ভাসতে একদিন আটলান্টিকের বুকে
‎সলিল-সমাধি হবে পাতাটির
‎একটি নীল তিমি এসে পাতার কাছে তার শক্তির মাহাত্ম্য জানান দিবে
‎হাঙর বর্ণনা করবে তার গতি-তত্ত্ব
‎কিন্তু অমরত্বের আনন্দে পাতাটি গাইতে থাকবে অসীমের গান।

‎২.
‎মরে গেলে~

‎মরে গেলে –
‎শুয়ে রব মাটির গর্তে
‎শব্দ ও আলোহীন ঘরে
‎উত্তর দক্ষিণ হয়ে।

‎বুকের ওপর জমবে ঘাস —
‎সবুজ লম্বা ও ধূসর
‎শিথানে কাঠগোলাপ জেগে থাকবে।

‎খালি পায়ে কেউ কেউ —
‎বুকের ওপর দিয়ে হেঁটে যাবে
‎মাঝেমাঝে কয়েকটি ছাগল —
‎বুকের ঘাস খাবে
‎বুকের ওপর হাজারো পিঁপড়ার—
‎মিছিল যাবে।
‎আমি কিছুই বলবনা
‎একদম চুপ করে থাকবো
‎যেন আমি কিছুই দেখছি না!


‎৩.
‎কিছু মানুষ মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে ~

‎কিছু মানুষ মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে।
‎জীবনের প্রতি তাদের সুতীব্র অভিযোগ।
‎তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে শোকগাথা ও মরমী গান।

‎আমি উপত্যকায় বসে বসে ঝরা পাতার গান শুনছি।
‎পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে – শান্ত শীতল মৃদু ঝর্ণা।
‎ঝর্ণার পানিতে ভেসে যাচ্ছে একটি অর্ধ-মৃত পাতা।
‎পাতার ওপর দু’টি পিঁপড়া।
‎তারা জীবনের গান গেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে!

‎নদীর তীরে পাশাপাশি দু’টি বক।
‎তাদের পায়ের সতর্ক পথচল।
‎চোখে ক্ষুধার তীব্র চাহনি।
‎তবু শিকারীর ফাঁদ তারা এড়াতে পারে না!

‎সমুদ্রে টানাজাল টানছে জেলেরা।
‎জাল এখন ঢেউ এর পাশে ভাসছে।
‎চারপাশে মাছ পাহারা দিচ্ছে গাঙচিল!
‎জীবনের শেষ খাবার খেয়ে মাছেরা উঠে আসবে বেলাভূমিতে।

‎বাজারে অপেক্ষা করছে কিছু মানুষ।
‎তাদের চোখে মুখে তৃষ্ণা আর ক্ষুধা।
‎তারা মাছের দাম জানতে চাইবে আর মাছের দিকে এক পলক নিরীহ দৃষ্টিতে চেয়ে পাহাড়ের  দিকে হাঁটতে থাকবে ; জীবনের প্রতি তাদের অগাধ বিতৃষ্ণা!
‎তারা মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে!



‎৪.
‎মা এবং আমি~
‎ 
‎গভীর রাত
‎রাতের বুকে অন্ধকার
‎ঘরভর্তি আর্তনাদ
‎মৃত্যুর সমান ব্যথা নিয়ে
‎মা অপেক্ষা করছে একটি জীবনের জন্য ।

‎চারপাশে কোলাহল
‎এদিক সেদিক ছোটাছুটি
‎কারো মুখে দুরুদ
‎কারো মুখে দোয়া
‎সব অন্ধকার ভেদ করে
‎এক অজানা  চিৎকারে
‎বেরিয়ে এলো একটি জীবন ।

‎পাশে আগুন জ্বলছে
‎মায়ের মুখে স্বর্গীয় হাসি
‎চোখে আবদ্ধ দৃষ্টি।

‎মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজান
‎সুবহে সাদিকের আলোয়-
‎প্রতিবেশির আগমনে ভরে উঠছে উঠান।


‎৫.
‎আব্বা~

‎আব্বা,
‎তোমারে উঠানে দেখি না
‎বিছানায় দেখি না
‎খাবারের টেবিলে দেখি না।

‎তোমার আওয়াজ শুনলে ভাল লাগতো
‎কিছু খেতে দেখলে ভাল লাগতো
‎অথবা,
‎একদম নীরবে শুয়ে থাকলে ভাল লাগতো!

‎ভাল লাগতো না কেবল তোমার কষ্টের গোঙানি
‎ক্লান্ত দেহ
‎শুকনো মুখ।

‎আব্বা,
‎আজ কোথাও তোমার কণ্ঠ শুনি না
‎মায়ের গোসল করানোর দৃশ্য দেখি না
‎হাসপাতাল থেকে হেসে হেসে বাড়ি ফেরা দেখি না।

‎কেবল দেখি খালি উঠান
‎শুন্য বিছানা
‎আর হ্যাঙারে টাঙানো তোমার পাঞ্জাবি ।


‎৬.
‎নত হও~

‎সন্ধ্যার আঁধারে
‎কিংবা গভীর রাতে
‎একা
‎একদম একা
‎আকাশের দিকে তাকাও।

‎কথা বল
‎প্রশ্ন কর
‎অভিমান দেখাও
‎অভিযোগ কর
‎চিৎকার কর।

‎এরপর___
‎কণ্ঠ নামাও
‎অশ্রু ঝরাও
‎নত হও
‎এবং নত হও।

‎তারপর___
‎শান্তি
‎শান্তি আসবেই।


‎৭।
‎মাটির কবি~

‎আমি মাটির কবি
‎দেখো, হাতের মুঠোতে লেগে আছে
‎পলিমাটির সৌরভ ।

‎চাষাবাদের সকল ব্যাকরণ আমার জানা
‎লাঙ্গল, জোয়াল কিংবা কাস্তে
‎আমার আদিমতম বিদ্যা।

‎কেন যে নীল নদের চাষাবাদ ভুলে
‎আমাকে শিখাতে চাও নগররাষ্ট্রের কলাকৌশল?
‎এসব সভ্যতার মরীচিকা ভুলে,
‎তুমিও এসো কাদামাটি-জলে।



‎৮.
‎দশটি বছর প্রতীক্ষায় আছি ~

‎- – -তারপর দশটি বছর ক্ষয়ে গেছে পৃথিবীর আয়ু থেকে।
‎সূর্য আপন কক্ষে  প্রদক্ষিণ করতে করতে ক্লান্ত প্রায়।
‎চন্দ্র জ্যোৎস্না ছড়াতে ছড়াতে  অনেকটা নিস্প্রভ!
‎ইতোমধ্যে অনেক কাক ঝুলে গেছে বৈদ্যুতিক তারে।
‎আমার মতো অনেক নিশাচর পেঁচা হারিয়ে গেছে পৃথিবী থেকে।

‎কিন্তু  তোমার জন্যে-
‎আমি এখনো স্থির পৃথিবীর মতো,
‎আমি এখনো অটল হিমালয়ের মতো
‎আমি এখনো প্রতীক্ষমাণ চাতকের মতো।

‎সেইদিন উপত্যকা ধরে পথে যেতে যেতে একটি রেইনট্রি আমার কাছে সবিনয়ে জানতে চাইলো-
‎”আমার চোখে এত জল কেন।”
‎আমি তাকে তোমার গল্প বলতে গিয়ে জানালাম-
‎দশটি বছর ধরে আমার চোখে একটি নদী বয়ে বেড়ানোর কথা!



‎৯.
‎তুমি নেই~

‎তুমি নেই-
‎আছে রিমঝিম বৃষ্টি,
‎কচু পাতার উপর টলমলে এক ফোটা জল,
‎জলে ডুবে থাকা সবুজ  গ্রাম।

‎তুমি নেই-
‎আছে নীল জলের নাফ,
‎জলে ভাসা কদম ফুল,
‎বর্ষার মেঘলা আকাশ।

‎তুমি নেই-
‎আছে কবিতার বই,
‎পুরোনো দিনের গান,
‎দক্ষিণের জানালা।

‎তুমি নেই-
‎আছে শৈশবের বিল,
‎কলা গাছের ভেলা,
‎দুরন্ত সাঁতার।



‎১০.
‎একদিন পাখির মতো উড়ে যাব~

‎জনো, একদিন ঠিক পাখির মতো উড়ে যাবো যেভাবে উড়ে যায় অচেনা পাখি-
‎অচেনা ডাল হতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার পর।
‎যেহেতু আমি কোন বৃক্ষে বাঁধিনি স্থায়ী নীড়,
‎কোন দিন কথা হয়নি দুই ডালে বসে মুখোমুখি।

‎শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে উড়ে আসা পাখির ঝাঁক দেখেছো নিশ্চয়;
‎ওখানে যে পাখিটা ঝাঁক বিচ্যুত একা একা পাখা ঝাঁপটায় সেটাই আমি।

‎আমি একা এবং একক।

‎কারণ, আমাকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়নি,
‎বা আমার জোড়ার আরেক পাখি এখনো সৃষ্টি হয়নি,
‎বা আমার জোড়ার অন্য পাখিটা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে আমার জন্মের পূর্বে!

‎জানো,ঐ আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যখন আমার ভীষণ শীত লাগে, তখন আমি অনেকবার ঝাঁকে ভিড়তে চেয়েছি কিন্তু এত বড় আকাশ থাকতেও- ওরা কেউ আমাকে একটুখানি স্পেস দেয়নি।









মন্তব্য করুন