কবিতা ক্যু – সাকিব জামাল

0
36

পৃথিবীটি বদলে গেছে !
আদিম জনগন, কতো কষ্ট করে –
একজন আরেকজনের ঘর বাধতেন ।
মিলেমিশে পশু শিকার করতেন ।
আত্মরক্ষার উপকরণ বানাতেন ।
আগুন জ্বালিয়ে আলোকিত করতেন ।

এভাবে চললো বয়ে সময় এগিয়ে. রেখাচিত্র পাহাড়ের মত –
শুণ্য থেকে শিখরে, শিখর থেকে বোধহয় আবার শুণ্যের দিকে যাত্রা ভালোবাসার ।

আমরা এখন অন্যের ঘর ভাঙতে শিখেছি !
আমরা অন্ধকার ভালোবাসতে শিখেছি !
আমরা ধ্বংস যজ্ঞের খেলা জানি !
অন্যকে ঠকিয়ে নিজে জেতার ধর্ম মানি !
আরো, আরো অধ:পতনের যাত্রী, বিবেক নি:শ্বেষ ।

শানে নুযুল শেষ ।

ঘুরে দাড়ানোর এখনই সময় ।

একটি ক্যু হবে !
অচিরে, বিশ্বজুড়ে !
সেনাবাহিনী অসংখ্য, কাতারে কাতারে সৈন্য !
শতকরা নিরানব্বইভাগই একাত্মতা জানাবে !
আমি নিশ্চিত – তুমিও সহযোদ্ধা হবে !
তবে !!!

প্রস্তুতি অসম্পন্ন !
অস্ত্র শানাতে হবে আরো !

নিখুঁত তীরন্দাজ হতে হবে !
আঘাত লক্ষ্য-নিশানা মোতাবেক চালাতে হবে ।
কোন ছাড় দেয়া হবেনা ।
পিছপা হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা ।

ঢংকা বাজাও !
রটিয়ে দাও-
আকাশে, বাতাসে,
প্রান্তরে, প্রান্তরে,
প্রতিধ্বনিত কন্ঠ থেকে কন্ঠের ঝংকারে !

একটি ক্যু হবে !
অচিরে, বিশ্বজুড়ে !
ক্যু হবে !
ক্যু!

ভয় নাই !

এই যুদ্ধে একমাত্র যুদ্ধ উপকরণ – তীর !

ভালোবাসার তীর !
প্রেমের তীর !
কবিতার তীর !
কবি’র কোমল হাতের স্পর্শের তীর !

লক্ষ্য বস্তু –
মানবের বিবর্তীত হৃদয়-
যেথায় ভালোবাসার শক্তি হয়েছে ক্ষয় !

প্রতি তীরের সাথে বেঁধে দেয়া হবে চিরকুট –
ভালোবাসার চিরকুট ।
সাম্যের চিরকুট ।
মানবাধিকারের চিরকুট ।

মানব প্রেমের কবিতায়, কবিতায় –
স্বপ্নের পৃথিবী গড়ার প্রত্যাশায় –
একটি ক্যু হবে !
কবিতা ক্যু !

(কবিতাটি “কবিতা ক্যু” বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।)

সাকিব জামাল
কবি সাকিব জামাল এর জন্ম ১৯৮৫ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি গ্রাম বাংলার এক ছায়া-সুনিবিড় গ্রামে । পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার হোগলাবুনিয়া গ্রামে কেটেছে দুরন্ত ছেলেবেলা । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মান সহ স্নাত্মক এবং স্নাত্মকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি একজন সরকারী ব্যাংক কর্মকর্তা । তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘নিবেদন’, ‘কচুরিপানার ডকুমেন্টারি’,'এবং সুন্দরীতমা','কবিতা ক্যু' । ব্যস্ততার মাঝে এখনও তিনি সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছেন নিয়মিত । বিভিন্ন দৈনিক এবং অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার বেশ কিছু কবিতা । মধ্যরাত্রির নিস্তব্দতা কবিকে প্রচন্ড মোহিত করে । মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ-বেদনা, সমসাময়িক বিষয়াবলী তাকে স্পন্দিত করে লেখার জন্য । কবি প্রায়ই বলেন, তিনি একটি ‘সমতার বিশ্ব’ দেখার অপেক্ষায় থাকেন প্রতিদিন ।