কবিতার শেষ লাইন

1
33

নদীর সাথে সেই যে ছাড়াছাড়ি,
আকাশ নীলে সেই কবে শেষ দেখা !
যখন নদী চললো পরের বাড়ি ;
যেথায় নদীর শেষ ঠিকানা লেখা !

আমিও দিলাম মেঘের দেশে পাড়ি
বৃষ্টি হয়ে ঝরবো বলে একা ;
সেদিন থেকেই ফুলের সাথে আড়ি,
পাখির কাছে হয় না যে গান শেখা ।

একলা গিটার ধুলোয় মাখামাখি,
তারার সাথেও হয়না তেমন কথা,
চাঁদের সাথে হয় না চোখাচোখি,
একলা কাঁদে শূন্য লেখার খাতা !

শেষ কবিতার শেষের যে লাইন বাকি,
সে লাইন লেখা আর কি হবে শেষ ?
আমি যে এখন মেঘের দেশে থাকি,
মেঘের সাথেই উড়ে বেড়াই বেশ !

আকাশ থেকে দেখতে পেতাম যদি,
কোথায় আছে নদীর পরের ঘর !
পরের ঘরে কেমন আছে নদী ?
নিজের ঘরটি আজ কতটা পর ?

মেঘ বললো, “দেখবে কেমন করে ?
ঝাপসা ধোঁয়ায় আকাশ গেছে ছেয়ে ;
তারচে’ চলো অঝোর ধারায় ঝরে
লুকিয়ে নামি নদীর দু’চোখ বেয়ে ।”

নামলো তখন অকাল শ্রাবনধারা, —
মন-মোহনায় নামলো দুঃখের ঢল, —
ছুটলো তুফান নিষেধ-বাঁধনহারা ;
জানলো শুধু চোখের নোনা জল !

জানলো শুধু দূর আকাশের চাঁদ,
জানলো শুধু উথাল বুকের ঢেউ,
জানলো শুধু ঘুম না আসা রাত ;
তিন ভুবনে জানলো না আর কেউ !

বৃষ্টিজল আর নদীর জলের স্বাদ, —
সবই মিঠে, শুধুই নিজের ঘরে ;
পরের ঘরে সব নোনা, বিস্বাদ ;
কে দেখে তা ? কে তার হিসাব করে ?

সেদিন থেকে মেঘকে দিলাম ছুটি,
পাখি হয়ে আমিই এখন ডাকি,
আমিই এখন ফুল হয়ে রোজ ফুটি,
চাঁদ হয়ে রোজ আমিই চেয়ে থাকি ।

গিটারটি রোজ মুছেই এখন রাখি ;
আমার কাছে সবই এখন দামী ।
শেষ কবিতার যে লাইন ছিল বাকি
এখন বুঝি, সে লাইনটি যে আমি !