Home / কবিতা / একাত্তরের দিব্যাঙ্গনে-হিমেল কবি

একাত্তরের দিব্যাঙ্গনে-হিমেল কবি

ওপারে নামিছে সন্ধ্যার আবির,এপারে
উঠিছে ঢেউ
নয় মাস হেথায় আছি বসে,কখনো
আসেনি কেউ।

বুকের পাজর যায় খুলে খুলে,ক্ষণে ক্ষণে
উঠি কাঁপি
যেথায় যাহারে জড়ায়ে ধরিয়াছি,সেই
গিয়াছে ছাড়ি।

ব্যাথাতুর এক নারীরে দেখি,যখনি কহিনু
মা
শত শাপে,অভিশাপে,কাঙালিনী মুর্ছিত
করিলো গা।

ঐ আসে কেউ,দুর অন্তরীক্ষে,দেখিতে
তাহারে নাই
মাতার আচলে যেন প্রভু,মোর মাতাকেই
খুঁজি পাই।

কে যাও ওরে,কমলেরা সব,পলির ত্বকে
পা ফেলে
হেথায় রাঙায়ে ধূলিচরণ,শত কবিজন
গেছে।

কে তুমি মাগো,সুধায় বারে;চক্ষে
পান্তুয়া বিল
লক্ষ্য তাহার অটুট,অনড়;বাশঁপাতি
আবাবিল।

কে যায় হেথায় চরণ ধুয়ে,কে বা
বাজায়ে বাশি?
কে চাহে আপনারে ভুলি,ফেলিতে
স্বদেশের মাটি ।

কোন সে দেবির অভিশাপে পেলেম
মরণ মন্ত্রণা
কাহার পদধূলি গিয়া চুমোয় ভরায়
বিয়োগ যন্ত্রণা।

কাহার বরদানে ফিরি পাবো আজিকে
মোর জননী
কে ঘুচাবে কাল,আর কি হে হবে দেখা
বঙ্গজনমভূমি!

এ বাংলা হতে চেয়ে দেখি,ও বাংলায়
ধীরে ধীরে
কুলীক নদীর দ্বার বেয়ে বেয়ে,শত মাঝি
যায় চলে।

শিয়রের ঘায়ে,পারি নেকো সে যে
ব্যাথাতুর তুলি শির
এপারের কেহ চেনে নাকো মোরে
ওপারে ছিলেম বীর।

পুরবী দাওয়া দোলা দিয়ে দিয়ে,কেহ
লবে মোরে তুলে
আতঙ্ক মন,আছে কি কেহ?একজন
ইহাদেরি ভিড়ে!

হে দরিদ্র মাতা,হীন নহে তুমি;দুর্বল
পারো নিকো দিতে মুক্তি
কেন তবে এই অসহায় প্রজাদ’লে
মন থেকে দিলে দেশভক্তি।

অপমান করিবোধ,হেথায় স্বর্গীয়
ঐশ্বর্য দেখি বটে
তবু লয়ে যাও মোরে,পুরানোবাসে
এই ছিল মোর ঘটে।

জানি মরণের পরে,অনাহুত তাড়নে
নরকি হইবে ঠাই
বরমাগি,আমরণ অবধি যেন জননীরে
দেখিবার পাই।

হেমন্তিকা সমীর সায়রে সায়রে,দোলায়
ধানের শিষ
হেথা আছি বেঁচে,শুধু বেঁচে,পিয়া তিক্ত
গরল বিষ।

অমরাবতি,সাত শত নদী তার যৌবন
হে মোর বাংলাদেশ
যাহা লয়ে ছিনু পরে এক কূটির প্রাঙ্গনে
ছিনু বেশ।

তৃষাতুর এক সেথায় ছিলেম,ছিলেম
দরিদ্র চাষা
লাঙল বাহিতে মনের হরিষে,কহিতাম
মনের ভাষা।

একে একেতে,দুয়ে মিলিয়ানে
করিতেম কত রঙ্গ
তৃতীয় কেহ উড়ায়ে আসিয়ানে
জটায়ে বাধিতো সঙ্গ।

কন্সিমকালে চতুর নাতি,কবেকারে
দিতো কামে ফাঁকি
বুড়া নানা কভু ভুল করিতো নারে
মারিয়া দেখিতে উকি।

আপনা হইতে মনের তাগিতে,ঘুরিয়া
ফিরিতাম ঘরে
কেহ ছিলো নাতো,বাধিবার মতো,বাধিতে
তাহার সনে।

সায়াহ্নের কালে,রাঙা মুখো হয়ে
ফিরিতেম যবে ধেয়ে
মাতার গলায় জড়ায়ে পাণিরে
সবি কহিতাম হেসে।

লক্ষীমাতা ভ্রুকূটি মেশায়ে,শিয়রে
বুলায়ে হাত
কহিতো,”বাছারে,কে আছে মোর?
ফিরিসনে করি রাত”।

নির্দয় প্রাণ মোর,হয়তো ছিনু,বড়ই
অবুঝ শিশু
হাসিয়া ওড়ায়ে তারে,তাড়া করিতেম
স্বদাহরনে ক্ষুদাতুর।

এমনি করিয়া কাটি বছর,কাটিলো
কতক দিন
কোনোদিনো হায়,বুঝিতে পারি নাই
মাতার স্বরের বীণ।

ছাব্বিশে মার্চ,অনাহুত কালো রাতে
কেহ দিয়াছিল ডাক
সেদিনি প্রথম শুনিয়াছিলেম,জননী
জন্মভূমির বাক্।

ব্যাথাতুর যবে ছুটিয়া গেনু,মায়ের
কাঁদন শুনি
তৃষাতুর ধূলিকার কণা ছপায়ে বসেছে
ঈর্ষিত চোখের পানি।

ঈর্শাতুর নই আমি বঙ্গভূমি,তবু তোমায়
বড় ঈর্শা করি আজ
মায়ের চোখের জল শুষিয়া,কেড়েছো
সুন্দরের প্রবাদ।

আপনা হস্তে,অপরুপারে তুমি প্রভু
সাজায়ে দিয়াছে বেশ
জন্মান্তরে রচিলে তাহার গুণকীর্তন
শেষের পাবো নাকো লেশ।

আজ কুড়ি ষোল,দেখিতেছি মা
তোমারি বদন
হাসিতে ভরায়েছি মা,আঁচলখানি
কহ দুঃখের কথন।

সেই যে মাতা মোর মুখ গুজিলো
সুখের অঞলে
যেন সতেরো বসন্ত মৌন রহিলাম
তাহার বচনে।

একটি মাত্র বচন তাহার,দুর্লভ
অতিশয়
জিগাসিলাম,”হে বঙ্গরবি,দুর
করহ বিস্ময়”।

সভয়ে,সবিনয়ে মাথা করিয়া নীচ,জানা
নাহি ছিল তার নীতি
কোথায় তাহার আঁটিলেন বন্ধনা,কোথায়
টানিলেন ইতি।

ক্ষণ পরে এক বিষাদ তরুদ’লে গিয়া
কহিলাম,”ত্রিদেব
অন্তরঙ্গ যাতনায় মম মাতঙ্গ দহিছে
আছে নাকি কোন বেদ”?।

ত্রিদেবগন,হাসি কিয়ৎক্ষণ,কহিলেন শেষে
“মানবের সন্ধান মানবেতে আছে
সন্ধিক্ষণে নিরক্ষণ করহ নিরালায়,বর্বর তুমি
পাবে খুঁজে উত্তর,ইহারি মাঝে।

কহিলাম,”বৃক্ষ তুমি আদিজন্মের
আদিগন্তু মুল
কহ মোরে সবিনয়ে,কোথা মানব
জন্মের ভুল”?।

কহিলাম,”হে দানব,অসুর,নগ্ন রাত্তের
চাদোয়া হাসি
মায়ের আঁচল পাতিয়া রহিলাম,এ মোর
অন্তিম শপথ বাক্য”।

এমনি করিয়া ঘুরিয়া ফিরিলেম,শত
ধ্রুবের দ্বারে দ্বারে
এমনো কাহারো বদনে শুনি নাই অতীতের
স্মৃতি বলে।

বিষন্ন নিরাশ দমকা হাওয়ায়,যখনি হৃদয়ে
লাগিলো দোলা
পথভোলা হয়ে কহিলাম,”বিধান,তোমারো
নেই অতীতের খসড়া”!

সবিশেষে কহিলাম,”হে আদিম চলার পথ,
অতীতের সব স্মৃতি
ধূলিকায় আছে লেগে,আজিকে কহ বিস্তারিয়া
মোরে।”

বুকের পাজরে পাজর চড়িলো,রক্ত
ফুটিলো গায়
আয় অভাগা,অবুঝ আমি মায়েরে
বুঝি নাই।

কোনদিন যবে মোড়লের সাথে,দুটো কতা
কহিতাম চরে
যেই মাতা মোরে গালি দিত্ না কভু,চর
বসাইতো কষে।

বীরহিনি সেই মায়ের আচর,যখনি
পড়িতে গায়
তপ্ত ব্যাথায় দেহ জ্বলিত,কহিতে
পাড়িতেম নাই।

অভিমানি সেই অবুঝ বালকের ঘুম
ভাঙাতে গিয়ে
মাতা মোর শিয়র দেশেতে, নিরাক
রহিতো বসে।

আয়’রে অভাগা,আয়’রে কাঁচা
সেদিনো বুঝি নাই
স্বামি-সন্তান হারা ক্ষত বুকে,মাতা
মোর জ্বলে ছাই!

তেইশ বছরের কালো মেঘ নিয়ে
অপ্রতিভ এক ছায়া-
বুকের ভেতর খেয়েছম কুড়ে কুড়ে
শুন্য মরুমায়া।

ভালো তোমাদের হবে না কোনদিন
হে অভিশপ্ত স্বদেশবাসি-
জননীর খেয়ে,জননীর পরে,ভস্ম
করে গেছো,স্বদেশের মাটি।

শত শাপে,অনুতাপে,যখনি জননীর
মাটি মাখিনু গায়
জনমের তরে সুপ্ত রহিলাম,প্রাণ
প্রিয় বাংলায়।

ছুটে যাও ওরে উলঙ্গ কিশোরেরা,ছুটে
যাও মোর গায়ে
পুত্রশোকে মাতা মোর নিদ্রা জাগিছে
পতাকা রাখিস হাতে।

জোড় হাত করি,ওরে নবীনেরা,কালিকে
প্রাতেই উঠিস জেগে
প্রথম উষায় মুক্ত ঝরিবে,মায়ের হাসিতে
আহা,বাংলার আকাশে।

ফিরিবার কালে,ফিরি ফিরি মা’রে
কয়ো ধরিয়া পাণি
আছি হেথায়,বাংলায় ঘুমায়ে,মা
আমায় যেন ডাকে।

বড় ব্যাথা ওরে কমলেরা,বিয়োগ
রাশি ওঠে বেদিয়া-
জনমের তরে,ছাড়িয়া যাইতে,জননীরে
না দেখিয়া।

ভুবুক্ষের কাল,অসাড়ের মতো,যদি
সন্ধ্যা নামিত ক্ষণে
আমারেই আমি লুকায়ে রাখিতাম
মায়ের অঞলে।

কোনদিন যদি রাহুকেতুনাশে,বাংলায়
চরে বাজ
ভয় করিসনে ওরে কমলেরা,আছে
হেথায় মোর মা।

সীমান্ত ভেদিয়া যদি চন্দিমা রাণী,লুঠায়ে
ওঠে গ্রহে
সেই সে বিনাশ,বিনাশ নহে,লয়ো ঠাঁই
মায়ের আঁচলে।

বীর ভদ্র-বীর অশোকে,শনিতে-শনি
যদি বাজে প্রলয়ের শাখ
নির্বাক,অবিনশ্বর রহিবে বাংলা,নন্দির
চেয়ে নন্দি আমার মা।

সদূর হতে দেখি চাহিয়া,চাহিয়া দেখি
বাংলার মাঠ
ব্যাথাতুর মায়ের করুণ স্নেহ,বাংলায়
সবুজ ঘাস।

কুহেলিকায় বসে কানাকুয়ারা,রাত্তিরে
যবে বাকে
ইহাদেরি ভিড়ে রহিবো বাংলয়,মাতা মোরে
যেন ডাকে।

গোধূলি লগনে হুতুম পেঁচারা,আসিবে
উঠনের ঘাসে
হুতুম সে তো নয়,হুতুমের বাসে,রহিবো
মায়ের পাশে।

উচাটনে রাখা মুড়কির পাটাতনে যদি
মুড়কি খুয়া যায়
মাছরাঙা হয়ে ছোঁ নিয়ে যাবো,হয়তো
কাঁঠালেরি ছায়ায়।

আবার বসন্তে অশ্বথের শাখে শাখে
ফুটিবে নতুন ফুল
বন্য লতিকায় বসন্ত কুমারি,বীরাঙ্গনারা
কর্ণে পরিবে দুল।

চৈতালি হাওয়া বহিবে যবে,পন্ড
রঙ্গনে
সোনার বাংলা সাজিবে,মোদের
পুন্যের অনলে।

বরোষার ঐ রিক্ত কোলাহলে যখনি
জুরোবে মাটি
শুকুনতলীর শুকুনের সব স্বপ্ন ছিরিবে
শুন্য পরিপাটি।

আমার অবাধ স্বপ্নের সীমা লাল
দীঘির ওপারে
দুই বাংলায় বিভেদ নায়র কেহ
দিয়াছে গারে।

ছোট ছোট যত কচিকাঁচারা কোচঁ
লয়ে সব হাতে
ওপারের সব নৃত্য নিদান,এপারেই
দেখি বসে।

বিকেল সাঝে থঁর থঁর কেঁপে,পুন্জে
লইয়া থলি
কৃষান,মুজুর,তাঁতি,সাহেবেরা গন্জের
পথে যাই চলি।

পথ পানে চাহি চাহি থাকি,হেথা
কানাকুয়া
যেন শঙ্খচিলেতে দেই পাহারা,ও
বাংলা।

বাংলার,মাটি,জল শৈশব খেলা
গেহ
কোনদিনো পারিনে ভুলিতে,দুলিতের
আম্রকানন।

এই বাংলায় হিততরে,মাতা দিয়েছে
মোদের হিম্মত
আমরা ক’জন;তরুণ,অবাধ,বাংলার
নব যুবক।

তোমরা আমাদের হেথায় দাও তিলার্ধ
স্থান
গুটিসূটি রহে যাবো,মৃদ্যু দুপুরের কাঁঠাক
ছায়ায়।

হে নব শিশু,মোরা কলঙ্কিত এক
একাত্তরের দিব্যাঙ্গনে
প্রতীক্ষিয়া আছি বাংলা মায়ের,
অলকানন্দ জ’লে।

সাত শত নদী সাঁতরায়ে যে হৃদি
তাহার
কন্ঠহার,বঙ্গরবির দিব্যলোকে
খুঁজে পাবো কি অসহায়!

হেথায় রহিবো আজন্মকাল,আছি আদিগন্তু
আদি হতে অদ্যাবধি
হৃদয় পুষ্পরাজ হতে উদাস্তু যে অর্ঘ্যথালা
আমার মা।

তাহারি বিয়োগান্তে হইলে ব্যাথিত
বিধস্ত আত্মা-
ভস্ম উপত্যকার এক স্পর্শহীন
একাত্তরের দিব্যাঙ্গনে।

About সবুজ পত্র

Himel. kobi

মন্তব্য করুন