গ্রামে একদিন হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ল—আলুর দাম এতটাই সস্তা হয়েছে যে একেবারে ডালভাতের মতো সহজলভ্য। আগে যেখানে আলুর দাম শুনে মানুষ হাঁসফাঁস করত, সেখানে এখন সবাই ঝুড়ি ভরে আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, শুধু মানুষই নয়—গ্রামের পশুপাখিরাও আলুর এই নতুন যুগে নিজেদের নাম লিখিয়ে ফেলল।
গো-খামারে প্রথমে গরুরাই বায়না ধরল। প্রতিদিনের ধানের ভুসি আর খড় খেতে খেতে তাদের বিরক্তি চূড়ান্ত। তাই তারা মালিককে গম্ভীর গলায় জানাল, “আজ একটু আলু সেদ্ধ দিলে মন্দ হয় না।” মালিকও ভাবল, যখন আলু এত সস্তা, তখন গরুকে ভুসির বদলে আলু খাওয়ালেই বা ক্ষতি কী! সেদ্ধ আলু খেয়ে গরুরা এতটাই খুশি হলো যে তারা দুধ দিল ঘন হয়ে—দুধ যেন জমে আলুর দই হয়ে গেল।
এরপর পালা এল মুরগির। আলুর স্তুপের সামনে দাঁড়িয়ে তারা খুটখুট করে খেতে শুরু করল। সন্ধ্যায় ডিম পাড়ল, কিন্তু সেই ডিম ভেঙে দেখা গেল ভেতরে সাদা কুসুমের বদলে ছোট ছোট আলুর মতো দানা। গ্রামের বাচ্চারা হেসে লুটোপুটি খেল—“দেখো, আমাদের মুরগি এখন আলু-ডিম দিচ্ছে!”
ছাগলেরাও পিছিয়ে রইল না। তারা দাঁতে চিবোতে চিবোতে আলুকে পাতলা টুকরো করে ফেলল। গরম রোদে সেই টুকরো শুকিয়ে একেবারে আলুর চিপস হয়ে গেল। ছেলেপুলেরা ছাগলের পেছনে দৌড়াতে লাগল, হাতে ঝুড়ি—যেন নতুন খোলা “ছাগল চিপস ফ্যাক্টরি” থেকে ফ্রি স্ন্যাকস তুলছে।
পুকুরের হাঁসেরা যখন আলু খেল, তখন হাস্যকর কাণ্ড ঘটল। তারা এত মোটা হয়ে গেল যে পানিতে নামতেই “টুপ” শব্দ করে ডুবে গেল। পরে আবার ভেসে উঠল, পেট ফুলে একেবারে আলুর মতো। সবাই মজা করে বলতে লাগল, “ওরা আর হাঁস নয়, ভেসে বেড়ানো আলুর ডিঙি।”
মানুষজন প্রথমে এসব দেখে হেসে কুটোপাটি খেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারল—যদি আলু খাওয়ার প্রতিযোগিতায় পশুরাই এগিয়ে যায়, তবে মানুষ খালি হাতে থাকবে। তাই তারাও শুরু করল আলু ভর্তা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর আলুর তরকারি বানাতে।
এইভাবে গোটা গ্রামেই শুরু হলো “আলুর উৎসব।” মানুষ আর পশু একসাথে আলু খেয়ে হাসিখুশিতে মেতে উঠল। কেউ বলল, “আলুর দাম কমলে শুধু রান্নাঘরই নয়, গোয়ালঘরও আনন্দে ভরে ওঠে।” আবার কেউ হেসে যোগ করল, “এটাই তো আসল ঐক্য—আলুর ঐক্য!”
নামঃ বিচিত্র কুমার
গ্রামঃ খিহালী পশ্চিম পাড়া
পোস্টঃ আলতাফনগর
থানাঃ দুপচাঁচিয়া
জেলাঃ বগুড়া
দেশঃ বাংলাদেশ
মোবাইলঃ 01739872753
https://www.facebook.com/profile.php?id=100014642137028&mibextid=ZbWKwL