~ আমি হিমু (১ম পর্ব)

0
35

আসসালামু আলাইকুম-

লেখকঃ সাইম আরাফাত (হিমু)

বৃষ্টি জিনিসটা খুবই অদ্ভুত।আমার মনে হয় পৃথিবীতে যত অদ্ভুত ও অসম্ভব সুন্দর জিনিস রয়েছে,বৃষ্টি তাদের মধ্যে অন্যতম।বৃষ্টি এবং জোছনা এই দুইটা জিনিস মানুষের মধ্যে জন্ম দেয় হাহাকারের,,,তাদের দিকে তাকালে মনে হয় আমার যেন কিছু একটা নেই,আমি অস্পূর্ন।একসময় এই হাহাকার থেকেই জন্ম নেয় মায়া। তবে আমার এসব কিছুতেই হাহাকার সৃষ্টি হয় না।আমি হিমু,আমার এসব কিছুতে মুগ্ধ হলে চলে না।হিমুদের এত সহজে মুগ্ধ হতে হয় না।এ বিষয়ে আমার বাবার বিখ্যাত একটা উপদেশ বাণী আছে-
“হে আমার পুত্র হিমু।তুমি কখনোই নিজের মধ্যে হাহাকার এবং মুগ্ধতা, এই দুইটা জিনিসের জন্ম দিও না।কারণ একসময় এগুলো থেকেই জন্ম নেবে মায়া।আর মহাপুরুষ হওয়া পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে মায়া।সুতরাং তুমি এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখবে”।

আমি এখন শুয়ে আছি আমার মেসের রুমের ভাঙা ছোট্ট চৌকিতে।আমার হাতে একটা চিঠি।চিঠিটা কে পাঠিয়েছে জানি না।এখন জানতে ইচ্ছাও করছে না।তবে চিঠিটা হাতে নিয়ে শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে।চিঠি হাতে নিয়ে বৃষ্টি দেখায় দারুন মজা।বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে।মুষলধারে বৃষ্টি।ইংরেজিতে যাকে বলে cats and dogs( কুকুর বিড়াল বৃষ্টি)।যে কেউ এই বৃষ্টি দেখে বৃষ্টির প্রেমে পড়ে যাবে।কিন্তু আমার মধ্যে এই বৃষ্টি দেখে কোনো রকম প্রেম,মুগ্ধতা,হাহাকার কিছুই আসছে না।আসার কথাও না।কারন আমি হিমু আর হিমুদের এসব থাকতে নেই।তবে আমার মধ্যে যা আসছে তা হলো একরাশ বিরক্তি।কারন আজকে ভেবেছিলাম রাস্তায় সারাদিন হাঁটব কিন্তু এই বৃষ্টির জন্য তা হচ্ছে না।মনে হয় আজকের জন্য আমার হিমুগিরি বন্ধ করে দিতে হবে।যে বৃষ্টি নেমেছে মনে হয় ৩-৪ ঘন্টার আগে থামবে না।যদি এখন থেমেও যায় তবুও রাস্তায় থাকবে হাঁটুসমান পানি।ম্যানহোলগুলি থাকবে পানির নিচে ডুবে এবং দু একজন সেখানে পা দিয়ে বর্জ্য স্নান করবে।

আমি এখন আমার রুমের জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছি।বৃষ্টির ছিটায় সারা শরীর ভিজে যাচ্ছে।ভিজছে ভিজুক।আমি হিমু,সামান্য বৃষ্টির ছঁটাকে পাত্তা দিলে চলবে না।আমার সারা শরীর এখন ভিজে গেছে।তবুও আমি দাঁড়িয়ে আছি।আমি কি কারও জন্য অপেক্ষা করছি? না,এটা হয় না,হিমু কারও জন্য অপেক্ষা করে না বরং সেই মানুষদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে।আমি কারও জন্য অপেক্ষা করছি না তবে আমি এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে আছি কেন? না,এটা কোনো প্রশ্ন না।হিমুদের কোনো উদ্দেশ্য নেই,তারা যখন যা ইচ্ছে তাই করে,তাদের কোনো উদ্দেশ্যের প্রয়োজন হয় না।
আমি জানালা থেকে সরে এলাম।ভিজে কাপড় নিয়েই বিটানায় বসলাম।।মাথাটা একটু ব্যাথা করছে,মনে হয় জ্বর এসে যাবে।এমন সময় ম্যাস ম্যানেজার জয়নাল এসে ডুকল আমার রুমে।হাতে চায়ের কাপ।এসেই দাঁত বের করে হেসে বলল, হিমু ভাই,এই নেন চা।দেখলাম আপনি বৃষ্টিতে ভিজতেছেন।তাই ভাবলাম একটু চা দিয়ে যাই।ভালো করি নাই,হিমু ভাই?
— ভালো করেছ।
— আপনার সারা শরীর তো ভিজে গেছে,ঠান্ডা লাগছে না আপনার?
—না।
—ও… আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনি মহাপুরুষ,,আপনাকে এই সামান্য ঠান্ডা কি করবে?
—শোনেন জয়নাল সাহেব,আমি কোনো মহাপুরুষ না,আমি আপনাদের মতোই সাধারণ মানুষ।
—সে আপনি নিজের মুখে স্বীকার করেন বা না করেন করেন,আপনে কি সেইটা আমি ভালো করেই জানি।
—আচ্ছা…ঠিক আছে।আপনার মেয়েটার কি খবর? বিয়ে কি ঠিক হয়েছে?
এবার জয়নাল সাহেব একটু অসহায়ের মতো বলল,না ভাই,মাইয়াডার যে কি কপাল! কত সম্মন্ধ আসছে কিন্তু একটাও পাকা হয় নাই।কিন্তু আমি জানি আপনে যেদিন আমার মেয়ের জন্য দোয়া কইরা দিবেন,, সেদিন আমার মেয়ের বিয়ে হইবই। আপনেরে কতদিন কইছি কিন্তু আপনে কোনো দোয়াই করেন না।ভাই সাহেব,আপনার কাছে আমার একটাই অনুরোধ,দয়া কইরা আমার মাইয়াডার জন্য একটু দোয়া কইরা দেন।মাইয়াডা আমার বড়ই দঃখী,,জন্মের সময়ই মারে হারাইছে।ভাই সাহেব আপনি একটু দোয়া কইরা দেন।
—আচ্ছা ঠিক আছে,আমি দোয়া করে দিচ্ছি যে,আপনার মেয়ের খুব শীঘ্রই বিয়ে হবে এবং জামাই হবে রাজপুত্রের মতো।
এবার জয়নাল সাহেব খুশি খুশি গলায় বললেন,আপনের ভালো হউক ভাই সাহেব।এবার আমি মাইয়াডারে নিয়া চিন্তামুক্ত হইলাম।আমি এখন যাই।
—আচ্ছা যান।
জয়নাল সাহেব চলে গেলেন।আমি বালিশের কাছে রাখা চিঠিটা নিলাম।খাম খুলে দেখলাম মাজেদা খালা চিঠি পাঠিয়েছে।তাই চিঠিটা আর পড়লাম না।কারন আমি জানি চিঠিতে কি লেখা আছে।
হঠাৎ আমাকে অবাক করে দিয়ে বৃষ্টি থেমে গেল।আমি ভিজে কাপড় নিয়েই রাস্তায় নেমে গেলাম।রাস্তায় নেমে আমি আরও অবাক হলাম যে,রাস্তায় কোনো পানি নেই।রাস্তা পানিশূন্য।লোকজন ব্যস্তভাবে চলাচল করছে।কিন্তু আমি এখন চিন্তায় পড়ে গেলাম।এখন কি করব? হাটঁব নাকি মাজেদা খালার বাসায় এই ভিজা কাপড়ে গিয়ে সবাইকে চমকে দিব।আমি সিদ্ধান্ত নিলাম খালার বাসায় যাব।গিয়ে সবাইকে চমকে দিব।এই প্রযু্ক্তির দুনিয়ায় মানুষ চমকানো ভুলে গেছে।তাই মাঝেমাঝে তাদের চমকানো দরকার।
আমি খালার বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।আমি হাঁটছি আর ব্যস্ত শহরের লোকজন ব্যস্ত হয়ে ছুটছে।কেউ ছুটছে জীবিকার তাগিদে,কেউ ছুটছে চিকিৎসার জন্য আবার অনেকে অনেকে অনেক কিছুর তাগিদে।কিন্তু আমি কিসের তাগিদে ছুটছি।এই প্রশ্নের উত্তর কি আমি কোনো দিন পাব?

চলবে…..