আত্মহুতি

0
34

– উৎপল সরকার

তারপর আমি কবিগুরুর ‘মোহ’ কবিতাটি পড়ছিলাম
‘এ মোহ ক’দিন থাকে,এ মায়া মিলায়,
কিছুতে পারে না আর বাঁধিয়া রাখিতে’
চোখ হবে এ দুটি চরণ স্পর্শ করেছিল —
হঠাৎ মধ্যাকাশে তুমুল বজ্রপাত
এখন তো বর্ষাকাল নয়,তবে কি অমঙ্গলের বার্তা।
মা বাইরে যেতে বারংবার নিষেধ করেছিল ,
কিন্তু এমনই এক মায়া মোহ আমাকে করেছিল আহ্বান ।
আমাকে প্রদর্শন করো হে প্রিয়,আমি সেই নক্ষত্র
আমি অন্ধকারে উজ্জ্বল,পারলে আমায় আরো আলো দাও ।
সে ডাক যে ছিল ভুষণ মায়াবী
তাই শত নিষেধ ভুলে আমি হয়েছি অবজ্ঞা ।
আমার ঘরের সম্মুখে ছিল ছোট্ট একখানা বাতায়ন
যা পদ স্পর্শে মাড়িয়ে গ্ৰাহ্য করেছিলাম মরণ ।
সেদিন কবিগুরুর মতো আমিও উচ্চ কন্ঠে বলেছিলাম
“আকুল রাধা রিঝ অতি জরজর
ঝরা নয়ন – দও অনুখন ঝরঝর
তুঁহুঁ মম তাপ ঘুচাও
মরণ তু আও রে আও “।
মরণ আসেনি সেদিন এসেছিল যন্ত্রণা
আকাশের কান্নায় কয়েকটি জলবিন্দু পড়েছিল আমার বুকে ।
যন্ত্রণার তাড়নায় শরীর থেকে হৃদয় করেছি ভিন্ন
কান্না থামালে আমি বুঝতে পারি
অবজ্ঞায় আমি নিজেকে করেছিলাম আত্মাহুতি ।