প্রথম পাতা শামসুর রাহমান

শামসুর রাহমান

কবি শামসুর রাহমান – স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
তিনি কবিতার উর্ধে উঠে নিজেকে একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যার ফলে
১৯৯৯ সালে ইসলামী মৌলবাদী সংঘটন “হরকত-উল্-জিহাদ-আল্-ইসলামী” তাঁকে হত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করে।
সৌভাগ্যবশত তিনি বেঁচে যান। এই মনের মানুষ আজ আমাদের এই দক্ষিন এশিয়া ভূখণ্ডে আরও বেশি
করে চাই। আজ যখন একটি গাছের পাতা নড়ে ওঠা মাত্র আমরা একে অপরকে মারতে উদ্যত হই, তখন
আমাদের মনে হয় যে উপরওয়ালা এমন মানুষ আরও অনেক সংখ্যায় কেন আমাদের মাঝে পাঠান না।

কবি জন্মগ্রহণ করেন তাঁর মামাবাড়ী, ঢাকার ৪৬নং মাহুতটুলি তে। পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মাতা
আমেনা বেগম। তাঁর পৈতৃক ভিটা, মেঘনা নদীর তীরে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাহাড়তলি গ্রামে
অবস্থিত। ১৩ জন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।

তিনি পোগোস হাই স্কুল থেকে ম্যট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৪৫ সালে। ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ. পাশ
করেন। বি.এ. পাশ করেন ১৯৫৩ সালে। এবং পরে এম.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পেশাগত দিক দিয়ে তিনি
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত ছিলেন।

১৮ বছর বয়স থেকে শুরু হয় তাঁর কবিতা রচনা। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রংন্থ “প্রথম গান দ্বিতীয়
মৃত্যুর আগে” (১৯৬০)। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “রৌদ্র করোটিতে” (১৯৬৩), “বিধ্বস্ত নীলিমা”
(১৯৬৭), “নিরালোকে দিব্যরথ” (১৯৬৮), “নিজ বাসভূমে” (১৯৭০), “বন্দী শিবির থেকে” (১৯৭২), “টেবিলে
আপেলগুলো হেসে ওঠে” (১৯৮৬), “অবিরল জলভ্রমি” (১৯৮৬), “আমরা ক’জন সঙ্গী” (১৯৮৬), “ঝরনা আমার
আঙুলে” (১৯৮৭), “স্বপ্নেরা ডুকরে ওঠে বারবার” (১৯৮৭), “খুব বেশী ভালো থাকতে নেই” (১৯৮৭), “মঞ্চের
মাঝখানে” (১৯৮৮), “বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” (১৯৮৮), “মাতাল হৃত্তিক”, “হৃদয়ে আমার পৃথিবীর
আলো” (১৯৮৯), “সে এক পরবাসে” (১৯৯০), “গৃহযুদ্ধের আগে” (১৯৯০), “খণ্ডিত গৌরব” (১৯৯২), “ধ্বংসের
কিনারে বসে” (১৯৯২), “হরিণের হাড়” (১৯৯৩), “আকাশ আসবে নেমে” (১৯৯৪), “উজাড় বাগানে” (১৯৯৫),
“এসো কোকিল এসো স্বর্ণচাঁপা” (১৯৯৫), “মানব হৃদয়ে নৈবেদেয সাজাই” (১৯৯৬), “তুমিই নিঃশ্বাস তুমিই
হৃত্স্পন্দন” (১৯৯৬), “তোমাকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়োছি” (১৯৯৭), “হেমন্ত সন্ধ্যৈয় কিছুকাল”
(১৯৯৭), “ছায়াগণের সঙ্গে কিছুক্ষণ” (১৯৯৭), “মেঘলোকে মনোজ নিবাস” (১৯৯৮), “সৌন্দর্য আমার ঘরে”
(১৯৯৮), “রূপের প্রবালে দগ্ধ সধ্যা রাতে” (১৯৯৮), “টুকরো কিছু সংলাপের সাঁকো” (১৯৯৮), “স্বপ্নে ও
দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি” (১৯৯৯), “নক্ষত্র বাজাতে বাজাতে” (২০০০), “শুনি হৃদয়ের ধ্বনি” (২০০০), “হৃদয়পদ্মে
জ্যোত্স্না দোলে” (২০০১), “ভগ্নস্তূপে গোলাপের হাসি” (২০০২), “ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুকছে”
(২০০৩), “গন্তব্য নাই বা থাকুক” (২০০৪), “কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে” (২০০৪), “গোরস্থানে কোকিলের করুণ
আহ্বান” (২০০৫), “অন্ধকার থেকে আলোয়” (২০০৬), “না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন” (২০০৬) প্রভৃতি।

তাঁর ছড়া-গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “এলাটিং বেলাটিং” (১৯৭৪), “ধান ভানলে কুঁরো দেবো” (১৯৭৭), “গোলাপ
ফোটে খুকীর হাতে” (১৯৭৭), “স্মৃতির শহর” (১৯৭৯), “রংধনুর সাঁকো” (১৯৯৮), “লাল ফুলকির ছড়া” (১৯৯৫),
“নয়নার জন্য” (১৯৯৭),“আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি” (২০০৪), “নয়নার জন্য গোলাপ” (২০০৫) প্রভৃতি।

তাঁর বহু প্রশংসিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে “অক্টোপাশ” (১৯৮০),“অদ্ভুত আঁধার এক” (১৯৮৫), “নিয়ত
মন্তাজ” (১৯৮৫),“এলো সে অবেলায়” (১৯৯৪) প্রভৃতি।

কবির প্রাপ্ত সম্মান ও পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক,
আনন্দ পুরস্কার প্রভৃতি।

তাঁর কবিতায় বর্তমান বাংলাদেশ তার বিচিত্র ভাবনা, অনুভূতি, ও সমস্যাজটিল জীবনের একটি শক্তিশালী
ভাষা খুঁজে পেয়েছে।

আমাদের দুঃখ এই যে কবি বাংলাদেশের শাহবাগ আন্দোলন দেখে যেতে পারলেন না।