Home / কবিতা

কবিতা

বর্ষা দিনে – উদয় দেবনাথ

ঠোঁট তার শব্দ বিমুখ । চোখে কী ভীষণ প্লাবন। মনে এঁকে ঘৃণার হিসেব, তুমি তাকে জীবন ভাবছে ।। এই নিয়ে জ্বলুক আগুন। স্নেহ হােক পাথর ক্ষণিক। তুমি শুধু রাগ দেখেছ, ঝাপসা দু-চোখ দেখােনি।।

Read More »

আকাশ-বার্তা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শুভ সংবাদ লোক মারফত আসবে ভেবে সন্ধ্যা রাত থেকে হাত দুখানা মাথার পিছনে রেখে এতক্ষণ তুমি। স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন, এবারে। দরজায় টোকা পড়তেই সেই মানুষটি ঘর ছেড়ে।

Read More »

ভালোবাসা থেকে দূরে – অনুব্রতা গুপ্ত

মানুষ ভীষণ কাছে আসে, জড়িয়ে ধরে মৃতের লাশ, মুখ ঢেকে নিই বিজ্ঞাপনে, রুক্ষতাতে মনের শ্বাস। এখন আগুন সামলে চলি, হাওয়ার ভেতর তন্বী মাস, দূরত্বে ভালো আছি, পা বাঁচিয়ে উল্টো পাশ । জ্বরের মুখে কি ঘা এর, সব মানুষই মুখরোচক, দুগ্ধনখর ভাঙার পরেই, জাপটে ধরে মারণরােগ। তখন তোমার চোখের আলো, ঠোটের ...

Read More »

মিথ্যাবাদী, তোকে ভালোবাসি – লুৎফর হাসান

তুমি তােমার টুকরাে টুকরাে মিথ্যে কথা। আমার কবরের ঘাসের সাথে রেখে এসে, দেখবে সেসব নয়নতারা ফুল হয়ে ফুটতে শুরু করেছে। তুমি তােমার বড় বড় মিথ্যে কথা আমার কবরের কোনায় পুতে এসে, দেখবে সে সব একদিন।

Read More »

ঈশ্বর-১ – নিত্যানন্দ দত্ত

যে গাছ সঙ্গীহীন বিষণ্ণ মানুষের মতো একা ধূসর শূন্য তার অকৃপণ ছায়ার এলাকা। সে ছায়ায় ঘর বাঁধে আশ্রিত পাখি পরিবার শুধু তার বন্ধলে ব্যথাদাগ, অপমানভার

Read More »

তাঁবু – তুষার কবির

ওখানে পড়ে আছে যে ঘুমের ঘুঙুর; মদ মোহ প্রেম কাম ও মধু যারা শুধু চাইছে কেবলি আজ ডুবে যেতে। অভ্র, ভায়োলিন আর ভ্রমরের স্বরে

Read More »

বিরহ – বিক্রম ঘোষ

যতটুকু ভালোবাসা রেখেছি বাকি, যদি পারো অবশেষে ফিরিয়ে দিয়ো আমায়। শেষ নক্ষত্রের রাত। শব্দশূন্য আঁধার আসে কোন তারা নেই, জেগে থাকবে অনন্ত আকাশে কিছু তারা বাঁচে আমার মতো করে, আঁধারে। হয়তো তুমি আছো বলে এক শতাব্দী দূরে

Read More »

নদী – বিক্রম ঘোষ

তোমার চোখে নদী দেখেছি নিশ্চুপ কত বিরহে, আলোর অভিমানে, মাখিয়ে জল চাঁদের গায়ে । শব্দ নেই, সমস্ত শব্দ গেছে নিশ্চুপ ব্রত পালনে। ভিনদেশী জোনাকি আলো দিয়ে ঝিনুক কুড়িয়ে আনেন। চোখ ঢুকে পড়ে, তারা গুলো খুব ঘুম কাতর তুলা বুনে বুনে মেঘ গাঁয়ে জড়িয়ে আঁধার-চাদর।

Read More »

খোয়াই – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পশ্চিমে বাগান বন চষা-খেত    মিলে গেছে দূর বনান্তে বেগনি বাষ্পরেখায়;       মাঝে আম জাম তাল তেঁতুলে ঢাকা          সাঁওতালপাড়া;    পাশ দিয়ে ছায়াহীন দীর্ঘ পথ গেছে বেঁকে          রাঙা পাড় যেন সবুজ শাড়ির প্রান্তে কুটিল রেখায়।       হঠাৎ উঠেছে এক-একটা যূথভ্রষ্ট তালগাছ,    দিশাহারা অনির্দিষ্টকে যেন দিক দেখাবার ব্যাকুলতা।       পৃথিবীর একটানা সবুজ উত্তরীয়          তারি এক ধারে ...

Read More »

নূতন কাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের কালে গোষ্ঠে যখন সাঙ্গ হল          সকালবেলার প্রথম দোহন,       ভোরবেলাকার ব্যাপারীরা          চুকিয়ে দিয়ে গেল প্রথম কেনা বেচা,       তখন কাঁচা রৌদ্রে বেরিয়েছি রাস্তায়,          ঝুড়ি হাতে হেঁকেছি আমার কাঁচা ফল নিয়ে–       তাতে কিছু হয়তো ধরেছিল রঙ, পাক ধরে নি।    তার পর প্রহরে প্রহরে ফিরেছি পথে পথে; কত লোক কত বললে, কত নিলে, ...

Read More »

নাটক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নাটক লিখেছি একটি।          বিষয়টা কী বলি। অর্জুন গিয়েছেন স্বর্গে,          ইন্দ্রের অতিথি তিনি নন্দনবনে। উর্বশী গেলেন মন্দারের মালা হাতে          তাঁকে বরণ করবেন ব’লে। অর্জুন বললেন, দেবী, তুমি দেবলোকবাসিনী,       অতি সম্পূর্ণ তোমার মহিমা,          অনিন্দিত তোমার মাধুরী,             প্রণতি করি তোমাকে।       তোমার মালা দেবতার সেবার জন্যে। উর্বশী বললেন, কোনো অভাব নেই দেবলোকের,

Read More »

কোপাই – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পদ্মা কোথায় চলেছে দূর আকাশের তলায়,       মনে মনে দেখি তাকে। এক পারে বালুর চর,       নির্ভীক কেননা নিঃস্ব, নিরাসক্ত– অন্য পারে বাঁশবন, আমবন,       পুরোনো বট, পোড়ো ভিটে,     অনেক দিনের গুঁড়ি-মোটা কাঁঠালগাছ–       পুকুরের ধারে সর্ষেখেত,

Read More »

ভূমিকা

গীতাঞ্জলির গানগুলি ইংরেজি গদ্যে অনুবাদ করেছিলেম। এই অনুবাদ কাব্যশ্রেণীতে গণ্য হয়েছে। সেই অবধি আমার মনে এই প্রশ্ন ছিল যে, পদ্যছন্দের সুস্পষ্ট ঝংকার না রেখে ইংরেজিরই মতো বাংলা গদ্যে কবিতার রস দেওয়া যায় কি না। মনে আছে সত্যেন্দ্রনাথকে অনুরোধ করেছিলেম, তিনি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু, চেষ্টা করেন নি। তখন আমি নিজেই পরীক্ষা ...

Read More »