শুরু করি লয়ে পাক নাম আল্লার,
করুণা-নিধান যিনি কৃপা-পারাবার।

উষার শপথ। দশ সে রাতের শপথ করি,

জোড়-বিজোড় সে দিনের শপথ! সে বিভাবরী,

যবে অবসান হতে থাকে করি তার শপথ

জ্ঞানীদের তরে যথেষ্ট শপথ – এই তো।

ভীমবাহু ওই ইরামীয়, ‘আদ’দের পরে,

করেছেন কীবা প্রভু তব,​​ দেখনি কি ওরে?

হয়নি সৃজিত নগরসমূহে তাদের প্রায়

আর সে ‘সামুদ’ জাতি সে পাথর কাটিয়া

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সে উপত্যকায় –

বসাইয়াছিল নগর বসতি,​​ আর বহু কীলকধারী;

ফেরাউন সাথে বিনাশ সাধিলাম কেন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমি তাহারই?

 ​​​​ 

নগরে নগরে করেছিল ঔদ্ধত্য – আর

বহু অনাচার এনেছিল তথায় আবার।

শাস্তি দণ্ড তোমাদের প্রভু

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাদের উপরে দিলেন তাই,

নিশ্চয় তব প্রভু দেখে সব,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ থাকেন সময় প্রতীক্ষায়।

মানবে যখন দিয়ে সম্পদ

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সম্মান,​​ করে পরীক্ষা প্রভু,

আমার প্রভুই দিলেন এ সব

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সম্মান’ – বলে অবোধ তবু।

আবার তাহারে পরীক্ষা যবে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ করেন জীবিকা হ্রাস করে,

সে বলে, ‘আমার প্রভুই এ হেন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অপমানিত গো করিল মোরে!’

নহে,​​ নহে,​​ তাহা কখনই নহে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এ সবের তরে তোমরা দায়ী,

এতিমে তোমরা গ্রাহ্য কর না

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঙালে খাদ্য দিতে উৎসাহ নাহি।

অন্নমুষ্টি তারে নাহি দাও,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অত বেশি কর অর্থের মায়া,

পিতৃ-সম্পদ বিনা বিচারে সে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ যাও যে তোমরা ভোগ করিয়া।

জান না কি,​​ যবে ভীষণ রবে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এ-ধরিত্রী বিচূর্ণিত হবে,

দলে দলে ফেরেশ্‌তাগণ

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তখন হাজির হবে সবে।

আর আসিবেন সেদিন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তব মহান প্রভু সেথায়,

দোজখ সেদিন হইবে আনীত,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সেদিন মানুষ স্মরিবে হায়!

কিন্তু সেদিন স্মরণে কি হবে?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হায় হায়’ করি কাঁদিবে সব,

পূর্বে যদি এ জীবনের তরে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ প্রেরিতাম পুণ্যের বিভব!’

অন্য কেহ সে পারিবে না দিতে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তেমন শাস্তি সেদিন,

অন্য কেহই তখন বাধা দিতে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পারিবে না সেই যে দিন।

শাস্তি-প্রাপ্ত মানব-আত্মা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ফিরে এসো নিজ প্রভু পানে।

 ​​ ​​​​ তুমি তার প্রতি প্রীত যেমন

 ​​ ​​​​ তিনি তব প্রতি প্রীত তেমন।

অনুগত মোর দাস যারা

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এসো সেই দলে,

বেহেশ্‌তে মোর করিবে প্রবেশ

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অবহেলে।

সুরা ফজর
এই সুরা মক্কা শরিফে অবতীর্ণ হয়। ইহাতে ৩০টি আয়াত, ১৩৭টি শব্দ ও ৫৮৫টি অক্ষর আছে।

শানে-নজুল – এক সময় কাফেররা বলিতে লাগিল যে, মানুষের ভালোমন্দ কার্যের প্রতিফল প্রদান করা আল্লার অভিপ্রেত নহে। যদি তিনি পাপীর প্রতি অসন্তুষ্ট ও পুণ্যবানের প্রতি সন্তুষ্ট হইতেন তবে কেয়ামতের প্রতীক্ষা না করিয়া ইহজগতেই কেন সৎ লোকদিগকে সম্পদশালী ও অসৎ লোকদিগকে বিপদগ্রস্ত করেন না? পরলোক মিথ্যা ইত্যাদি। তখন এই সুরা নাজেল হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।