হে ক্ষুধিত বন্ধু মোর,​​ তৃষিত জলধি,

এত জল বুকে তব,​​ তবু নাহি তৃষার অবধি!

 ​​​​ এত নদী উপনদী তব পদে করে আত্মদান,

 ​​ ​​ ​​​​ বুভুক্ষু! তবু কিতব ভরলি না প্রাণ?

 ​​ ​​ ​​​​ দুরন্ত গো,​​ মহাবাহু

​​ ওগো রাহু,

 ​​​​ তিন ভাগগ্রাসিয়াছ-এক ভাগ বাকী!

 ​​​​ সুরা নাই-পাত্র-হাতে কাঁপিতেছে সাকী!

 ​​​​ 

 ​​​​ হে দুর্গম! খোলো খোলো খোলো দ্বার।

সারি সারি গিরি-দরী দাঁড়ায়ে দুয়ারে করে প্রতীক্ষাতোমার।

 ​​​​ শস্য-শ্যামা বসুমতী ফুলে-ফলে ভরিয়া অঞ্জলি

​​ করিছে বন্দনা তব,​​ বলী!

 ​​​​ তুমি আছ নিয়া নিজ দুরন্ত কল্লোল

​​ আপনাতে আপনি বিভোল!

পাশে নাশ্রবণে তব ধরণীতে শত দুঃখ-গীত;

দেখিতেছ বর্তমান,​​ দেখেছ অতীত,

 ​​​​ দেখিবে সুদূর ভবিষ্যৎ-

মৃত্যুঞ্জয়ী দ্রষ্টা,​​ ঋষি,​​ উদাসীনবৎ!

ওঠে ভাঙে তব বুকে তরঙ্গেরমতো

জন্ম-মৃত্যু দুঃখ-সুখ,​​ ভূমানন্দে হেরিছ সতত!

 

হে পবিত্র! আজিও সুন্দর ধরা,​​ আজিও অম্লান

সদ্য-ফোটা পুষ্পসম,​​ তোমাতে করিয়ানিতি স্নান!

 ​​​​ জগতের যত পাপ গ্লানি

হে দরদী,​​ নিঃশেষে মুছিয়া লয় তবস্নেহ-পাণি!

 ​​​​ ধরা তব আদরিনী মেয়ে,

তাহারে দেখিতে তুমি আস’ মেঘ বেয়ে!

হেসে ওঠে তৃণে-শস্যে দুলালী তোমার,

কালো চোখ বেয়ে ঝরে হিম-কণাআনন্দাশ্রু-ভরা!

জলধারা হ’য়ে নামো,​​ দাও কত রঙিন যৌতুক,

ভাঙ’ গড়’ দোলাদাও,-

 ​​​​ কন্যারে লইয়া তব অনন্ত কৌতুক!

 ​​​​ 

 ​​​​ হে বিরাট,​​ নাহি তব ক্ষয়,

নিত্য নবনব দানে ক্ষয়েরে ক’রেছ তুমি জয়!

হে সুন্দর! জলবাহু দিয়া

 ​​​​ ধরণীর কটিতট আছো আঁকড়িয়া

ইন্দ্রানীলকান্তমণিমেখলার সম,

মেদিনীর নিতম্ব সাথে দোল’ অনুপম!

 ​​​​ 

 ​​​​ বন্ধু,​​ তব অনন্তযৌবন

 ​​​​ তরঙ্গে ফেনায়ে ওঠে সুরার মতন!

 ​​ ​​​​ কত মৎস্য-কুমারীরা নিত্য তোমা’ যাচে,

কত জল-দেবীদের শুষ্ক মালা প’ড়ে তব চরণের কাছে,

 ​​​​ চেয়ে নাহি দেখ,​​ উদাসীন!

কার যেন স্বপ্নে তুমি মত্ত নিশিদিন!

 

মন্থর-মন্দার দিয়া দস্যুসুরাসুর

মথিয়া লুন্ঠিয়া গেছে তব রত্ন-পুর,

হরিয়াছে উচ্চেঃশ্রবা,​​ তব লক্ষ্মী,​​ তব শশী-প্রিয়া

তার সব আছে আজ সুখে স্বর্গে গিয়া!

করেছে লুন্ঠন

তোমার অমৃত-সুধা-তোমার জীবন!

সব গেছে,​​ আছে শুধু ক্রন্দন-কল্লোল,

আছে জ্বালা,​​ আছেস্মৃতি,​​ ব্যথা-উতরোল

উর্ধ্বে শূন্য,​​ নিম্নে শূন্য,-শূন্য চারিধার,

মধ্যে কাঁদে বারিধার,​​ সীমাহীন রিক্ত হাহাকার!

 ​​​​ 

 ​​​​ হে মহান! হে চির-বিরহী!

হে সিন্ধু,​​ হে বন্ধু মোর,​​ হে মোরবিদ্রোহী,

সুন্দর আমার!

 ​​ ​​ ​​​​ নমস্কার!

নমস্কার লহ!

তুমি কাঁদ,-আমিকাঁদি,-কাঁদে মোর প্রিয়া অহরহ।

 ​​​​ হে দুস্তর,​​ আছে তব পার,​​ আছে কূল,

এ অনন্তবিরহের নাহি পার–নাহি কূল–শুধু স্বপ্ন,​​ ভুল।

 ​​​​ 

 ​​​​ মাগিব বিদায় যবে,​​ নাহি র’বআর,

তব কল্লোলের মাঝে বাজে যেন ক্রন্দন আমার!

 ​​​​ বৃথাই খুঁজিবে যবেপ্রিয়

উত্তরিও বন্ধু ওগো সিন্ধু মোর,​​ তুমি গরজিয়া!

 ​​​​ 

তুমি শূন্য,​​ আমি শূন্য,​​ শূন্য চারিধার,

মধ্যে কাঁদে বারিধার,​​ সীমাহীন রিক্ত হাহাকার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।