খেলে গো  ​​ ​​ ​​​​ ফুল্লশিশু ফুল-কাননের বন্ধু প্রিয়

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ পড়ে গো  ​​ ​​ ​​​​ উপচে তনু জ্যোৎস্না চাঁদের রূপ অমিয়।​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সে বেড়ায়,  ​​​​ হীরক নড়ে,​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আলো তার  ​​ ​​​​ ঠিকরে পড়ে!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘোরে সে  ​​ ​​ ​​​​ মুক্ত মাঠে পল্লিবাটে ধরার শশী,

 ​​​​ সে বেড়ায় –  ​​ ​​ ​​​​ শুষ্ক মরুর শুক্লা তিথি চতুর্দশী।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অদূরে  ​​ ​​ ​​​​ স্তব্ধগিরি মৌনী অটল তপস্বী-প্রায়,

 ​​ ​​ ​​​​ পায়ে তার  ​​ ​​ ​​​​ পুষ্প-তনু কন্যা যেন উপত্যকায়।​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শিরে তার  ​​ ​​​​ উদার আকাশ,​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ব্যজনী  ​​ ​​ ​​ ​​​​ দুলায় বাতাস।

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বয়ে যায়  ​​ ​​​​ গন্ধ শিলায় ঝরনা নহর লহর লীলায়,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ যেতে সে  ​​ ​​ ​​​​ খোশবুপানি ছিটায় কূলের ফুলমহলায়!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ পাখি সব  ​​ ​​​​ শিস দিয়ে যায় কিশমিশেরই বল্লরিতে,

 ​​ ​​​​ আকাশ আর  ​​ ​​​​ বনদেবীতে মন বিনিময় নীল হরিতে।

 ​​ ​​ ​​​​ মাঝে তার  ​​ ​​​​ ফুল্লশিশু বেড়ায় খেলে ফুল-ভুলানো,

 ​​ ​​ ​​​​ বুকে তার  ​​ ​​ ​​​​ সোনার তাবিজ নিখিল আলোক দোল-দোলানো।

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কভু সে  ​​ ​​ ​​​​ দুম্বা চরায় সাধ করে হয় মেষের রাখাল,

 ​​ ​​ ​​​​ কভু তার  ​​ ​​ ​​​​ দৃষ্টি হারায় দূর সাহারায়,​​ যায় কেটে কাল।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অচপল  ​​ ​​​​ মৌনী পাহাড় মন হরে তার,​​ রয় বসে সে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ খেলাতে  ​​ ​​​​ মন বসে না যায় হারিয়ে নিরুদ্দেশে।​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অসীম এই  ​​ ​​​​ বিশাল ভুবন​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওগো তার  ​​ ​​​​ স্রষ্টা কেমন!​​ 

 ​​ ​​​​ কে সে জন  ​​ ​​​​ করল সৃজন বিচিত্র এই চিত্রশালা?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মেষেরা  ​​ ​​​​ যায় হারিয়ে,​​ মুগ্ধ শিশু রয় নিরালা।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কভু সে  ​​ ​​​​ বংশী বাজায়,​​ উট-শিশুরা সঙ্গে নাচে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ভুলে নাচ  ​​ ​​​​ বেড়ায় খুঁজে কে যেন তায় ডাকছে কাছে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সহসা  ​​​​ আনমনা হয় সঙ্গীজনের সংগীতে সে,

 ​​ ​​ ​​​​ চোখে তার  ​​ ​​​​ কার অপরূপ বেড়ায় রূপের ভঙ্গি ভেসে।

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাথি সব  ​​ ​​​​ ভয় পেয়ে যায় চক্ষুতে তার এ কোন জ্যোতি!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও আঁখি  ​​ ​​​​ নীল সুঁদিফুল সুন্দরেরে দেয় আরতি।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও যেন  ​​​​ নয় গো শিশু,​​ পথভোলা এক ফেরেশতা কোন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও যেন  ​​​​ আপন হওয়ার ছল করে যায়,​​ নয়কো আপন।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হালিমা  ​​​​ ভয়-চকিতা রয় চেয়ে গো শিশুর পানে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও যেন  ​​​​ পূর্ণ জ্ঞানী,​​ সকল কিছুর অর্থ জানে।

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে জানে  ​​​​ কাহার সাথে কয় সে কথা দূর নিরালায়,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে জানে  ​​​​ কাহার খোঁজে যায় পালিয়ে বনের সীমায়।​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কভু সে  ​​ ​​​​ শিশুর মতো,​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কভু সে  ​​ ​​​​ ধেয়ান-রত।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ একী গো  ​​​​ পাগল তবে,​​ কিংবা ভূতে ধরল এরে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এনে হায়  ​​​​ পরের ছেলে পড়ল কী কু-গ্রহের ফেরে!

 ​​ ​​ ​​​​ স্বামী তার  ​​​​ বলল ভেবে, “শোন হালিমা,​​ কাল সকালে

 ​​ ​​ ​​​​ দিয়ে আয়  ​​​​ যাদের ছেলে তাদেরকাছে,​​ নয় কপালে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ আছে সে  ​​ ​​​​ বদনামি ঢের,​​ নাই এ গ্রামে ভূতের ওঝা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাবাতে  ​​​​ ‘লাত মানাতের'​​ কৃপায় এ ভূত হবেই সোজা!”

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হালিমা  ​​ ​​​​ অশ্রু মুছে মোহাম্মদে আনল আবার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হারানো  ​​ ​​​​ মাতৃক্রোড়ে,​​ বললে, ‘লহো পুত্র সোনার!’

 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমিনার  ​​ ​​​​ বক্ষ বেয়ে অশ্রু ঝরে আকুল স্নেহে,

 ​​ ​​ ​​​​ ওরে মোর  ​​ ​​​​ সোনার দুলাল আজ ফিরেছে আঁধার গেহে!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এল আজ  ​​ ​​​​ মুত্তালিবের চোখের মণি,​​ শান্তি শোকের,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এল আজ  ​​ ​​​​ সফর করে সফর চাঁদে চাঁদ মুসাফের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পারায়ে  ​​ ​​​​ কৃষ্ণা তিথি শুক্লা তিথির আসল অতিথ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কত সে  ​​ ​​ ​​​​ দিনের পরে আঁধার ঘরে উঠল রে গীত!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।