​​​​ 

শহিদের ঈদ এসেছে আজ

শিরোপরি খুন-লোহিত তাজ,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ:

জিয়ারার চেয়ে পিয়ারা যে

আল্লার রাহে তাহারে দে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

চাহি নাকো গাভি দুম্বা উট,

কতটুকু দান?​​ ও দান ঝুট।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চাই কোরবানি,​​ চাই না দান।

রাখিতে ইজ্জত ইসলামের

শির চাই তোর,তোর ছেলের,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেবে কি?​​ কে আছ মুসলমান?

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

ওরে ফাঁকিবাজ,​​ ফেরেব-বাজ,

আপনারে আর দিসনে লাজ—

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গরু ঘুষ দিয়ে চাস সওয়াব?

যদিই রে তুই গরুর সাথ

পার হয়ে যাস পুলসেরাত,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কি দিবি মোহাম্মদে জওয়াব!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

শুধাবেন যবে— ওরে কাফের,

কি করেছ তুমি ইসলামের?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ইসলামে দিয়ে জাহান্নম

আপনি এসেছ বেহেশত​​ 'পর—

পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেখাসনে মুখ,​​ লাগে শরম!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

গরুরে করিলে সেরাত পার,

সন্তানে দিলে নরক-নার!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখ।

কোরবানি দিলি গরু-ছাগল,

তাদেরই জীবন হলো সফল

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পেয়েছে তাহারা বেহেশ্‌ত্-লোক!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

শুধু আপনারে বাঁচায় যে,

মুসলিম নহে,​​ ভণ্ড সে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ইসলাম বলে—বাঁচো সবাই!

দাও কোরবানি জান্ ও মাল,

বেহেশত্ তোমার করো হালাল।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ স্বার্থপরের বেহেশ্‌ত্‌ নাই।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

ইসলামে তুমি দিয়ে কবর

মুসলিম বলে করো ফখর!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মোনাফেক তুমি সেরা বে-দীন!

ইসলামে যারা করে জবেহ্,

তুমি তাহাদেরি হও তাঁবে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তুমি জুতো-বওয়া তারি অধীন।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,

ইয়া উয়া পরে সেজেছ সং,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!

কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা করো জড়ো

ত্যাগের বেলাতে জড়সড়!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তোর নামাজের কি আছে দাম?

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 

খেয়ে খেয়ে গোশ্‌ত্ রুটি তো খুব

হয়েছ খোদার খাসি বেকুব,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিজেদের দাও কোরবানি।

বেঁচে যাবে তুমি বাঁচিবে দ্বীন,

দাস ইসলাম হবে স্বাধীন,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গাহিছে কামাল এই গানই!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১০

বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে

জান্নাত পানে আছ চেয়ে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ভাবিছ সেরাত হবেই পার।

কেননা,​​ দিয়েছ সাতজনের

তরে এক গরু! আর কি,​​ ঢের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাতটি টাকায় গোনাহ্ কাবার!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১১

জানো না কি তুমি,​​ রে বেঈমান!

আল্লা সর্বশক্তিমান

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেখিছেন তোর সব কিছু?

জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা

দিবি আল্লারে,​​ ওরে বোকা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কেয়ামতে হবে মাথা নিচু!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১২

ডুবে ইসলাম,​​ আসে আঁধার!

ইব্‌রাহিমের মতো আবার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কোরবানি দাও প্রেয় বিভব!

'জবিহুল্লাহ্'​​ ছেলেরা হোক,

যাক সব কিছু—সত্য রোক!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মা হাজেরা হোক মায়েরা সব।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১৩

খা'বে দেখেছিলেন ইবরাহিম—

'দাও কোরবানি মহামহিম!'

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তোরা যে দেখিস দিবালোকে

কি যে দুর্গতি ইসলামের!

পরীক্ষা নেন খোদা তোদের

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হবিবের সাথে বাজি রেখে!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১৪

যত দিন তোরা নিজেরা মেষ,

ভীরু দুর্বল,​​ অধীন দেশ—

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আল্লার রাহে ততটা দিন

দিও নাকো পশু কোরবানি,

বিফল হবে রে সবখানি!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ (তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১৫

মনের পশুরে করো জবাই,

পশুরাও বাঁচে,​​ বাঁচে সবাই।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কশাই-এর আবার কোরবানি!—

আমাদের নয়,​​ তাদের ঈদ,

বীর-সুত যারা হলো শহীদ,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অমর যাদের বীরবাণী।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ১৬

পশু কোরবানি দিস তখন

আজাদ-মুক্ত হবি যখন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জুলম-মুক্ত হবে রে দ্বীন।—

কোরবানির আজ এই যে খুন

শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জালিমের যেন রাখে না চিন্॥

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমিন্ রাব্বিল্ আলমিন!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমিন রাব্বিল্ আলমিন!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।