আমি  ​​​​ নিজেই নিজের ব্যথা করি সৃজন।

​​ শেষে  ​​​​ সে-ই আমারে কাঁদায়,​​ যারে করি আপনারই জন।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দূর হতে মোর বাঁশির সুরে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পথিক-বালার নয়ন ঝুরে

​​ তার  ​​​​ ব্যথায়-ভরাট ভালোবাসায় হৃদয় পুরে গো!

​​ তারে  ​​​​ যেমনি টানি পরান-পুটে

অমনি  ​​​​ সে হায় বিষিয়ে উঠে!

তখন  ​​​​ হারিয়ে তারে কেঁদে ফিরি সঙ্গীহারা পথটি আবার নিজন।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুগ্ধা ওদের নেই কোনো দোষ,​​ আমিও ওগো ধরা দিয়ে মরি,​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ প্রেম-পিয়াসি প্রণয়ভুখা শাশ্বত যে আমিই তৃপ্তিহারা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘরবাসীদের প্রাণ যে কাঁদে পরবাসীদের পথের ব্যথা স্মরি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাইতো তারা এই উপোসির ওষ্ঠে ধরে ক্ষীরের থালা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শান্তিবারিধারা।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘরকে পথের বহ্নিঘাতে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দগ্ধ করি আমার সাথে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লক্ষ্মী ঘরের পলায় উড়ে এই সে শনির দৃষ্টিপাতে গো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জানি আমি লক্ষ্মীছাড়া

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বারণ আমার উঠান মাড়া,

আমি  ​​​​ তবু কেন সজল চোখে ঘরের পানে চাই?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিজেই কি তা জানি আমি ভাই?

​​ হায়  ​​​​ পরকে কেন আপন করে বেদন পাওয়া,​​ পথেই যাহার

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাটবে জীবন বিজন?

​​ আর  ​​​​ কেউ হবে না আপন যখন,​​ সব হারিয়ে চলতে হবে ​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পথটি আমার নিজন।

​​ আমি  ​​​​ নিজেই নিজের ব্যথা করি সৃজন।

কলিকাতা
ভাদ্র ১৩২৮

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।