আসিল শরৎ সৌরাশ্বিন

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেবদেবী যবে ঘুমায়ে রয়

পাষাণ-স্বর্গ হিমালয়-চূড়ে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ শুভ্র মৌলি তুষারময়।

ধরার অশ্রু – সাত সাগরের

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ লোনা জল উঠি রাত্রিদিন

ধোঁয়াইয়া ওঠে স্বর্গের পানে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ অভিমানে জমে হয় তু্হিন।

পাষাণ স্বর্গ,​​ পাষাণ দেবতা,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কোথা দুর্গতিনাশিনী মা,

বলির রক্তে রাঙিয়া উঠেছে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ যুগে যুগে দশ দিক-সীমা।

খড়ের মাটির দুর্গা গড়িয়া

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দুর্গে বন্দি পূজারিদল

করে অভিনয়! দেবী-বিগ্রহ

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ জড় গতিহীন চির-অচল।

দেবতা ঘুমান,​​ ঘুমায় মানুষ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এরই মাঝে নিজ তপোবলে

জোর করে নেয় দেবতার বর

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দৈত্য-দানব দলে দলে।

মোরা পূজা করি,​​ পূজা শেষে চাই

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ পায়ের পদ্ম শুভ-আশিস,

ওরা চেয়ে নেয় কালীর খড়গ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিষ্ণুর গদা,​​ শিবের বিষ।

তপস্যা নাই,​​ ঢাকঢোল পিটে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেবতা জাগাতে করি পূজা,

দশপ্রহরণধারিণী এল না

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দশশো বছরে দশভুজা।....

এমনই শরৎ সৌরাশ্বিনে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ অকাল-বোধনে মহামায়ার

যে পূজা করিল লঙ্কেশ্বরে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বধিতে ত্রেতায় রাম-অবতার,

আজিও আমরা সে দেবীপূজার

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ অভিনয় করে চলিয়াছি,

লঙ্কা-সায়রি রাবণ মোদেরে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধরিয়া গলায় দেয় কাছি!

দুঃসাহসীরা দুর্গা বলিয়া

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ হয়তো কাছিতে পড়ে ঝুলে,

দেবীর আসন তেমনই অটল,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ শুধু নিমেষের তরে দুলে।

বলি দিয়া মোরা পূজেছি দেবীরে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ নব-ভারতের পূজারিদল

গিয়াছিনু ভুলি – দেবীরে জাগাতে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিতে হল আঁখি-নীলোৎপল।

মহিষ-অসুর-মর্দিনী মা গো,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ জাগো এইবার,​​ খড়গ ধরো।

দিয়াছি ‘যতীন’ অঞ্জলি নব –

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ভারতের আঁখি-ইন্দিবর।

 ​​​​ 

টুটে তপস্যা,​​ ওঠে জাগি ওই

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ পূজারত অভিনব ভারত,

ভারত-সিন্ধু গর্জি উঠিল

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিযুত শঙ্খ মন্ত্রবৎ।

উলু উলু’ বোলে পুরনারী,​​ দোলে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ হিম-কৈলাস টালমাটাল,

কারাগারে টুটে অর্গল,​​ ওঠে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ রাঙিয়া আশার পূর্বভাল।

 

ছুটে বিমুক্ত-পিঞ্জর,​​ পায়ে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ লুটে শৃঙ্খল ছিন্ন ওই,

নাচে ভৈরব,​​ ভৈরবী নাচে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ছিন্নমস্তা তাথই থই।

আকাশে আকাশে বৃংহিত – নাদ

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ করে কোটি মেঘ ঐরাবত,

সাগর শুষিয়া ছিটাইছে বারি,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও কী ফুল হানে পুষ্পরথ।

এ কী এ শ্মশান-উল্লাস নাচে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধূর্জটি-শিরে ভাগীরথী,

অকূল তিমিরে সহসা ভাতিল

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ নব-উদিচীর নব জ্যোতি।

বিস্ময়ে আঁখি মেলিয়া চাহিনু,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেখা যায় শুধু দেবীচরণ,

মৃত্যুঞ্জয় মহাকাল শিব

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ যে চরণ-তলে মাগে মরণ!

ভৈরব নাচে ঊর্ধ্বে,​​ নিম্নে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ খণ্ডিত শির মহিষাসুর,

দুলিছে রক্ত-সিক্ত খড়গ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঁপিছে তরাসে অসুর-পুর।

চিৎকারি ওঠে উল্লাসে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ নব-ভারতের নব-পূজারিদল,

চাই না মা তোর শুভদ আশিস,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ চাই শুধু ওই চরণতল –

যে চরণে তোর বাহন সিংহ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ মহিষ-অসুর মথিয়া যাস।

যদি বর দিস,​​ দিয়ে যা বরদা,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিয়ে যা শক্তি দৈত্য-ত্রাস’ ।

 

শুধু দেখা যায় দেবীর রক্ত –

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ চরণ,​​ খড়গ,​​ মহিষাসুর, -

ওকে ও চরণ-নিম্নে ঘুমায়

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ সমর-শয়নে বিজয়ী শূর?

কে যতী-ইন্দ্র তরুণ তাপস

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিয়া গেলে তুমি এ কী এ দান?

শবে শবে গেলে প্রাণ সঞ্চারি –

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কেশব,​​ বিলায়ে তোমার প্রাণ!

তিলে তিলে ক্ষয় করি আপনারে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ তিলোত্তমারে সৃজিলে,​​ হায়!

সুন্দ ও উপসুন্দ অসুর

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিনাশিতে তব তপ-প্রভায়!

হাতে ছিল তব চক্র ও গদা,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ গ্রহণ করনি হেলায়,​​ বীর!

বুকে ছিল প্রাণ,​​ তাই দিয়ে রণ

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ জিনে গেলে প্রাণহীন জাতির।

তোমার হাতের শ্বেত-শতদল,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ শুভ্র মহাপ্রাণ তোমার,

দিয়া গেলে তব জাতিরে আশিস,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ তোমার হাতের নমস্কার!

 ​​​​ 

লইবে কে বীর উন্নত-শির

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেবতার দান সে শতদল,

টলিয়া উঠেছে বিস্ময়ে ত্রাসে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিন্ধ্য হইতে হিম-অচল।

নামিয়া আসিল এতদিনে বুঝি

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ হিমগিরি হতে পাষাণী মা,

কে জানে কাঘার রক্তে রাঙিয়া

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ উঠিতেছে দশদিক-সীমা!

দেখালে মায়ের রক্তচরণ,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে দেখাবি দেবীমূর্তি মা-র,

ভারত চাহিয়া আছে তার পানে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে করিবে প্রতি-নমস্কার!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।