হইল প্রভাত বিংশ শতাব্দীর,

নব-চেতনায় জাগো,​​ জাগো,​​ ওঠো বীর!

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ নব ধ্যান নব ধারণায় জাগো

 ​​ ​​ ​​​​ নব প্রাণ নব প্রেরণায় জাগো,

সকল কালের উচ্চে তোলো গো শির,

সর্ব-বন্ধ-মুক্ত জাগো গে বীর!

 ​​​​ 

নূতন কন্ঠে গাহো নূতনের জয়,

আমরা ছাড়ায়ে উঠেছি সর্বভয়!

 ​​ ​​ ​​​​ সর্বকালের সব মোহ টুটি

 ​​ ​​ ​​​​ বালারুণ-সম উঠিয়াছি ফুটি,

আজিকে সর্ব-পরাধীনতার লয়,

নতুন জগতে আমরা সর্বময়!

 ​​​​ 

আমরা ভেঙেছি রাজার সিংহাসন,

করিয়াছি নরে আমরা গো নারায়ণ।

 ​​ ​​ ​​​​ পায়ের তলার মানুষে টানিয়া

 ​​ ​​ ​​​​ বসায়েছি দেব-বেদিতে আনিয়া,

টুটায়েছি সব দেশের সব বাঁধন

নিখিল মানব-জাতি এক-দেহ-মন।

 ​​​​ 

পুবে,​​ পশ্চিমে,​​ উত্তরে,​​ দক্ষিণে,

য়ুরোপ,​​ রাশিয়া,​​ আরব,​​ মিশর,​​ চীনে,

আমরা আজিকে এক-প্রাণ এক-দেহ,

এক বাণী – ‘কারো অধীন রবে না কেহ!’

চলি একে একে দৈত্য-প্রাসাদ জিনে।

পারি নাই যাহা,​​ পারিব দু-এক দিনে।

 

কাটায়ে উঠেছি ধর্ম-আফিম-নেশা,

ধ্বংস করেছি ধর্মযাজকী পেশা!

 ​​ ​​ ​​​​ ভাঙি মন্দির,​​ ভাঙি মসজিদ,

 ​​ ​​ ​​​​ ভাঙিয়া গির্জা গাহি সংগীত –

এক মানবের একই রক্ত মেশা।

কে শুনিবে আর ভজনালয়ের হ্রেষা!

 ​​​​ 

আদিম সৃষ্টি-দিবস হইতে ক্রমে

প্রাচীরের পর প্রাচীর উঠেছে জমে।

 ​​ ​​ ​​​​ সে প্রাচীর মোরা ভাঙিয়া চলেছি,

 ​​ ​​ ​​​​ যতই চলেছি ততই দলেছি,

জ্বালায়ে চলেছি পুঞ্জিভূত সে ভ্রমে।

শ্রমণের চেয়ে পূজ্য ভেবেছি শ্রমে।

 ​​​​ 

সংস্কারের জগদ্দল পাষাণ

তুলিয়া বিশ্বে আমরা করেচি ত্রাণ।

 ​​ ​​ ​​​​ সর্ব আচার-বিচার-পঙ্ক হতে

 ​​ ​​ ​​​​ তুলিয়া জগতে এনেছি মুক্ত স্রোতে।

অচলায়তনের বাতায়ন খুলি – প্রাণ

এনেছি,​​ গেয়েছি নব-আলোকের গান।

 ​​​​ 

নচিকেতা-সম আমরা মৃত্যুপুরী

বারে বারে যাই বারে বারে আসি ঘুরি।

 ​​ ​​ ​​​​ মৃত্যুরে মোরে মুখোমুখি দেখিয়াছি,

 ​​ ​​ ​​​​ মোদের জীবনে মরণ আছে গো বাঁচি।

স্বর্গ এনেছি মর্ত্যে করিয়া চুরি;

চাহিছে মর্ত্য দেবতা বাদলে ঝুরি।

 

সার্থক হল আজিকে ভৃগু-সাধন,

আমরা করেছি সৃজন নব-ভুবন।

 ​​ ​​ ​​​​ এক আদমের মোরা সন্তান,

 ​​ ​​ ​​​​ নাহি দেশ কাল ধর্মাভিমান,

নাহি ব্যবধান,​​ উচ্চ,​​ নীচ,​​ সুজন;

নিখিলের মাঝে আমরা এক জীবন!

 ​​​​ 

আমরা সহিয়া সকল অত্যাচার

অত্যাচারের করিতেছি সংহার।

 ​​ ​​ ​​​​ ধ্বংসের আগে এই পৃথিবীরে

 ​​ ​​ ​​​​ হাসাইতে মোরা আসিয়াছি ফিরে,

শেষের আশিস আমরা নিয়ন্তার;

খুলিতে এসেছি সকল বন্ধ দ্বার।

 ​​​​ 

আমরা বাহিনী বিংশ শতাব্দীর

মন্থন-শেষ-অমৃত জলধির

 ​​ ​​ ​​​​ কল্কি-দেবের আগে-চলা দূত,

 ​​ ​​ ​​​​ কভু ঝড়,​​ কভু মলয়-মারুত,

কভু ভয়,​​ কভু ভরসা লক্ষ্মীশ্রীর।

জীবন-মরণ পায়ে বাজে মঞ্জীর!

আমরা বাহিনী বিংশ শতাব্দীর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।