​​ ​​ ​​ ​​​​ আদর-গর-গর

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বাদর দর-দর

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এ-তনু ডর-ডর

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঁপিছে থর-থর।

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ নয়ন ঢল-ঢল

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ সজল ছল-ছল,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাজল কালো জল

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঝরে লো ঝরঝর।

 ​​​​ 

ব্যাকুল বন-রাজি শ্বসিছে ক্ষণে ক্ষণে,

সজনি! মন আজি গুমরে মনে মনে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিদরে হিয়া মম

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিদেশে প্রিয়তম,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এ জনু পাখি সম

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বরিষা-জরজর।

 ​​​​ 

কাহার ও মেঘোপরি গমন গম-গম?

সখী রে মরি মরি,​​ ভয়ে গা ছম-ছম।

 ​​​​ গগনে ঘন ঘন

 ​​​​ সঘনে শোনো-শোনো

 ​​​​ ঝনন রণরণ –

 ​​ ​​​​ সজনি ধরো ধরো।

 ​​​​ 

জলদ-দামা বাজে জলদে তালে তালে,

কাজরি-নাচা নাচে ময়ূর ডালে ডালে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শ্যামল মুখ স্মরি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সখিয়া বুক মোরি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ উঠিছে ব্যথা ভরি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আঁখিয়া ভরভর।

 

বিজুরি হানে ছুরি চমকি রহি রহি

বিধুরা একা ঝুরি বেদনা কারে কহি।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সুরভি কেয়া-ফুলে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এ হৃদি বেয়াকুলে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঁদিছে দুলে দুলে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বনানী মর-মর।

 ​​​​ 

নদীর কলকল,​​ ঝাউয়ের ঝল-মল,

দামিনী জ্বলজ্বল,​​ কামিনী টল-মল।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আজি লো বনে বনে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শুধানু জনে জনে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঁদিল বায়ুসনে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তটিনী তরতর।

 ​​​​ 

আদুরি দাদুরি লো কহো লো কহো দেখি,

এমন বাদরি লো ডুবিয়া মরিব কি?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ একাকী এলোকেশে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাঁদিব ভালোবেসে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরিব লেখা-শেষে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সজনি সরো সরো।

কলিকাতা
শ্রাবণ ১৩২৮

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।