মানুষের পদ-পূত মাটি দিয়া

 ​​ ​​​​ দেবতা রচিছে পূজারিদল।

সে দেবতা গেল স্বর্গে,​​ মানুষ

 ​​ ​​​​ রহিল আঁকড়ি মর্ত্যতল।

দেবতারে যারা করেছে সৃজন,

 ​​ ​​​​ সৃজিতে পারে না আপনারে,

আসে না শক্তি,​​ পায় না আশিস,

 ​​ ​​​​ ব্যর্থ সে পূজা বারে বারে।

মাটির প্রতিমা মাটিই রহিল,

 ​​ ​​​​ হায় কারে দিবে শক্তিবর,

দেবতার বর নিতে পারে হাতে

 ​​ ​​​​ হেথা কোথা সেই শক্তিধর!

বিগ্রহ-চালে হাসে বুড়োশিব,

 ​​ ​​​​ বলে, ‘দেখো দেখো দশভুজা,

নেংটি পরিয়া নেংটে ইঁদুর –

 ​​ ​​​​ ভক্তরা এল দিতে পূজা;

গণেশ-ভক্ত ইঁদুরে-বুদ্ধি

 ​​ ​​​​ হস্তীকর্ণ লম্বোদর,

কার্তিকে মোর সাজায়েছে দেখো,

 ​​ ​​​​ যেন উহাদের মিয়ের বর!

উহাদের দেব-সেনাপতি পরে

 ​​ ​​​​ ছেঁড়া কটিবাস আধ-হাতি,

সেনাদল হল চরকাবুড়ি গো,

 ​​ ​​​​ তরুণেরা হল জোলা তাঁতি!

মাথা কেটে আর অস্ত্র হেনেও

 ​​ ​​​​ হয় না স্বাধীন আর সকল,

সূতা কেটে আর বস্ত্র বুনিয়া

 ​​ ​​​​ কেল্লা করিবে ওরা দখল!

বলি দেয় ওরা কুমড়ো ছাগল

 ​​ ​​​​ বড়ো জোর দুটো পোষা মহিষ,

মহিষাসুরেরে বলি দিতে নারে,

 ​​ ​​​​ বলে, ‘মাগো ওটা তুই বধিস।’

লক্ষ্মীর হাতে অমৃতভাণ্ড,

 ​​ ​​​​ লক্ষ্মী ছেলেরা তাহাই চায়,

তাই পূজা করে ওরা বণিকেরে –

 ​​ ​​​​ লক্ষ্মীবাহন কালপ্যাঁচায়!

অমৃত চাহিছে,​​ ওরা তো চাহে না

 ​​ ​​​​ মোর কণ্ঠের বিষের ভাগ,

ওদেরই মরুতে জঙ্গলে চরে

 ​​ ​​​​ তোমার বাহন সিংহ-বাঘ!

দেখিয়া তরাসে পলায় উহারা;

 ​​ ​​​​ বাহন দেখিয়া যাদের ভয়,

সিংহবাহিনী! পূজিয়া তোমায়

 ​​ ​​​​ তারাই করিবে অসুর জয়?

সেথা তব হাতে টিনের খড়গ,

 ​​ ​​​​ সারা গায়ে মোড়া ঝালতা রাং,

দেখে হাসে আর ঘুমাই শ্মশানে,

 ​​ ​​​​ ভক্তের দল জোগায় ভাং।

কোন রূপ তব ধ্যান করে ওরা,

 ​​ ​​​​ শুনিবে?​​ শুনিয়া যাও ঘুমোও,

শ্বশুর-বাড়ির ফেরত যেন গো,

 ​​ ​​​​ অসুর-বাড়ির ফেরত নও!

বাণী-মেয়ে মোর বোবা হয়ে বসে,

 ​​ ​​​​ ভাঙা বীণা কোলে বসিয়া রয়,

কথায় কথায় সেথা সিডিসন,

 ​​ ​​​​ কী জানি কখন জেলের ভয়।

নিজেরা বন্দি,​​ তাই দেখো ওরা

 ​​ ​​​​ ধরিয়া ও কোন কন্যারে

কলা-বউ করে রেখেছে তাদের

 ​​ ​​​​ হীন কামনার কারাগারে!

ভূতো ছেলেগুলো কলেজেতে পড়ে,

 ​​ ​​​​ কে জানে ক-ল্যাজ পায় হোথায়,

কেহ শাখামৃগ হইয়াছে উঠি

 ​​ ​​​​ আধ্যাত্মিক উঁচু শাখায়!’

 ​​​​ 

এমনই শরৎ সৌরাশ্বিনে

 ​​ ​​​​ অকাল-বোধনে মহামায়ার

যে পূজা করিল বধিতে রাবণে

 ​​ ​​​​ ত্রেতায় স্বয়ং রামাবতার,

আজিও আমরা সে দেবী-পূজার

 ​​ ​​​​ অভিনয় করে চলিয়াছি!

লঙ্কা-সায়রী রাবণ ধরিয়া

 ​​ ​​​​ টুঁটিতে ফাঁসায়ে দেয় কাছি।

দুঃসাহসীরা দুর্গা বলিয়া

 ​​ ​​​​ হয়তো কাছিতে পড়ে ঝুলে,

দেবীর আসন তেমনই অটল,

 ​​ ​​​​ হয়তো ঈষৎ ওঠে দুলে।

কে ঘুচাবে এই পূজা-অভিনয়,

 ​​ ​​​​ কোথায় দূর্বাদলশ্যাম

ধরণি-কন্যা শস্য-সীতারে

 ​​ ​​​​ উদ্ধারিবে যে নবীন রাম!

 ​​​​ 

দশমুখো ওই ধনিক রাবণ

 ​​ ​​​​ দশ দিকে আছে মেলিয়া মুখ,

বিশ হাতে করে লুণ্ঠন তবু

 ​​ ​​​​ ভরে নাকো ওর ক্ষুধিত বুক।

হয়তো গোকুলে বাড়িছে সে আজ,

 ​​ ​​​​ উহারে কল্য বধিবে যে,

গোয়ালার গরে খেঁটে-লাঠি-করে

 ​​ ​​​​ হলধর-রূপী রাম সেজে!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।