নদীপারের মেয়ে!

ভাসাই আমার গানের কমল তোমার পানে চেয়ে।

আলতা-রাঙা পা দুখানি ছুপিয়ে নদী-জলে

ঘাটে বসে চেয়ে আছ আঁধার অস্তাচলে।

নিরুদ্দেশে ভাসিয়ে-দেওয়া আমার কমলখানি

ছোঁয় কি গিয়ে নিত্য সাঁঝে তোমার চরণ,​​ রানি?

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নদীপারের মেয়ে!

গানের গাঙে খুঁজি তোমায় সুরের তরি বেয়ে।

খোঁপায় গুঁজে কনক-চাঁপা,​​ গলায় টগর-মালা,

হেনার গুছি হাতে বেড়াও নদীকূলে বালা।

শুনতে কি পাও আমার তরির তোমায়-চাওয়া গীতি?

ম্লান হয়ে কি যায় ও-চোখে চতুর্দশীর তিথি?

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নদীপারের মেয়ে!

আমার ব্যথার মালঞ্চে ফুল ফোটে তোমায়-চেয়ে।

শীতল নীরে নেয়ে ভোরে ফুলের সাজি হাতে,

রাঙা উষার রাঙা সতিন দাঁড়ায় আঙিনাতে।

তোমার মদির শ্বাসে কি মোর গুলের সুবাস মেশে?

আমার বনের কুসুম তুলি পর কি আর কেশে?

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নদীপারের মেয়ে!

আমার কমল অভিমানের কাঁটায় আছে ছেয়ে!

তোমার সখায় পূজ কি মোর গানের কমল তুলি?

তুলতে সে-ফুল মৃণাল-কাঁটায় বেঁধে কি অঙ্গুলি?

ফুলের বুকে দোলে কাঁটার অভিমানের মালা,

আমার কাঁটার ঘায়ে বোঝ আমার বুকের জ্বালা?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।