​​ আজিও তেমনই করি

আষাঢ়ের মেঘ ঘনায়ে এসেছে

 ​​ ​​ ​​​​ ভারত-ভাগ্য ভরি।

আকাশ ভাঙিয়া তেমনই বাদল

 ​​ ​​ ​​​​ ঝরে সারা দিনমান,

দিন না ফুরাতে দিনের সূর্য

 ​​ ​​ ​​​​ মেঘে হল অবসান!

আকাশে খুঁজিছে বিজলি প্রদীপ,

 ​​ ​​ ​​​​ খোঁজে চিতা নদী-কূলে,

কার বয়নের মণি হরায়েছে

 ​​ ​​ ​​​​ হেথা অঞ্চল খুলে।

বজ্রে বজ্রে হাহাকার ওঠে,

 ​​ ​​ ​​​​ খেয়ে বিদ্যুৎ-কশা

স্বর্গে ছুটেছে সিন্ধু –

 ​​ ​​ ​​​​ ঐরাবত দীর্ঘশ্বসা।

ধরায় যে ছিল দেবতা,​​ তাহারে

 ​​ ​​ ​​​​ স্বর্গ করেছে চুরি;

অভিযানে চলে ধরণির সেনা,

 ​​ ​​ ​​​​ অশনিতে বাজে তূরী।

ধরণির শ্বাস ধূমায়িত হল

 ​​ ​​ ​​​​ পুঞ্জিত কালো মেঘে,

চিতাচুল্লিতে শোকের পাবক

 ​​ ​​ ​​​​ নিভে না বাতাস লেগে।

শ্মশানের চিতা যদি নেভে,​​ তবু

 ​​ ​​ ​​​​ জ্বলে স্মরণের চিতা,

এ-পারের প্রাণ-স্নেহরসে হল

 ​​ ​​ ​​​​ ও-পার দীপান্বিতা।

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ ​​ হতভাগ্যের জাতি,

উৎসব নাই,​​ শ্রাদ্ধ করিয়া

 ​​ ​​ ​​​​ কাটাই দিবস রাতি!

কেবলই বাদল,​​ চোখের বরষা,

 ​​ ​​ ​​​​ যদি বা বাদল থামে –

ওঠে না সূর্য আকাশে ভুলিয়া

 ​​ ​​ ​​​​ রামধনুও না নামে!

ত্রিশ জনে করে প্রায়শ্চিত্ত

 ​​ ​​ ​​​​ ত্রিশ কোটির সে পাপ,

স্বর্গ হইতে বর আনি,​​ আসে

 ​​ ​​ ​​​​ রসাতল হতে শাপ!

হে দেশবন্ধু,​​ হয়তো স্বর্গে

 ​​ ​​ ​​​​ দেবেন্দ্র হয়ে তুমি

জানি না কী চোখে দেখিছ

 ​​ ​​ ​​​​ পাপের ভীরুর ভারতভূমি!

মোদের ভাগ্যে ভাস্কর-সম

 ​​ ​​ ​​​​ উঠেছিলে তুমি তবু,

বাহির আঁধার ঘুচালে,

 ​​ ​​ ​​​​ ঘুচিল মনের তম কি কভু?

সূর্য-আলোকে মনের আঁধার

 ​​ ​​ ​​​​ ঘোচে না,​​ অশনি-ঘাতে

ঘুচাও ঘুচাও জাতের লজ্জা

 ​​ ​​ ​​​​ মরণ-চরণ-পাতে!

অমৃতে বাঁচাতে পারনি এ দেশ,

 ​​ ​​ ​​​​ ওগো মৃত্যুঞ্জয়,

স্বর্গ হইতে পাঠাও এবার

 ​​ ​​ ​​​​ মৃত্যুর বরাভয়!

ক্ষূণ শ্রদ্ধার শ্রাদ্ধ-বাসরে

 ​​ ​​ ​​​​ কী মন্ত্র উচ্চারি

তোমারে তুষিব,​​ আমরা তো নহি

 ​​ ​​ ​​​​ শ্রাদ্ধের অধিকারী!

শ্রদ্ধা দানিবে শ্রাদ্ধ করিবে

 ​​ ​​ ​​​​ বীর অনাগত তারা

স্বাধীন দেশের প্রভাত-সূর্যে

 ​​ ​​ ​​​​ বন্দিবে তোমা যারা!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।