[তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আস্‌মানের আঙিনা তখন কার্‌বালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রীক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইহা গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল-পাশা মহাহর্ষে রণস্থল হইতে তাম্বুতে ফিরিতেছেন। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদল মহাকল্লোলে অম্বর-ধরণী কাঁপাইয়া তুলিতেছে। তাহাদের প্রত্যেকের বুকে পিঠে দুই জন করিয়া নিহত বা আহত সৈন্য বাঁধা। যাহারা ফিরিতেছে তাহাদেরও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গোলাগুলির আঘাতে, বেয়নটের খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত, পোষাক-পরিচ্ছদ ছিন্নভিন্ন, পা হইতে মাথা পর্যন্ত রক্তরঞ্জিত। তাহাদের কিন্তু সে দিকে ভ্রূক্ষেপও নাই। উদ্দাম বিজয়োন্মাদনার নেশায় মৃত্যু-কাতর রণক্লান্তি ভুলিয়া গিয়া তাহারা যেন খেপিয়া উঠিয়াছে। ভাঙা সঙ্গীনের আগায় রক্ত-ফেজ উড়াইয়া ভাঙা-খাটিয়া-আদি-দ্বারা-নির্মিত এক অভিনব চৌদলে কামালকে বসাইয়া বিষম হল্লা করিতে করিতে তাহারা মার্চ করিতেছে। ভূমিকম্পের সময় সাগর কল্লোলের মতো তাহাদের বিপুল বিজয়ধ্বনি আকাশে-বাতাসে যেন কেমন একটা ভীতি-কম্পনের সৃজন করিতেছে। বহু দূর হইতে সে রণ-তাণ্ডব নৃত্যের ও প্রবল ভেরী-তূরীর ঘন রোল শোনা যাইতেছে। অত্যধিক আনন্দে অনেকেরই ঘন ঘন রোমাঞ্চ হইতেছিল। অনেকেরই চোখ দিয়া অশ্রু গড়াইয়া পড়িতেছিল।]

[সৈন্য-বাহিনী দাঁড়াইয়া। হাবিলদার-মেজর তাহাদের মার্চ করাইবার জন্য প্রস্তুত হইতেছিল। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যগণ গাইতেছিল,–]

 ​​​​  

 

ঐ খেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,

অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

হো হো  ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

[হাবিলদার-মাজর মার্চের হুকুম করিল,-কুইক্ মার্চ!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লেফ্‌ট! রাইট! লেফ্‌ট!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লেফ্‌ট! রাইট! লেফ্‌ট!!

 

[সৈন্যগণ গাহিতে গাহিতে মার্চ করিতে লাগিল]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঐ খেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

হো হো  ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

[হাবিলদার-মেজর;-​​ লেফ্‌ট্! রাইট!]

 

সাব্বাস্ ভাই! সাব্বাস্ দিই,​​ সাব্বাস্ তোর শম্‌শেরে।

পাঠিয়ে দিলি দুশ্‌মনে সব যম-ঘর একদম্‌-সে রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বল্‌ দেখি ভাই বল্ হাঁ রে,

দুনিয়ার কে ডর্ করে না তুর্কির তেজ তলোয়ারে?

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ [লেফট্! রাইট! লেফ্‌ট্!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!

বুজ্‌দিল্ ঐ দুশ্‌মন্ সব বিল্‌কুল্ সাফ হো গিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

দস্যুগুলোয় সাম্‌লাতে যে এমনি দামাল কামাল চাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

হো হো ​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

[হাবিলদার-মেজর;-​​ সাবাস সিপাই! লেফ্‌ট্! রাইট্! লেফ্‌ট!]

 

শির হতে এই পাঁও-তক্ ভাই লাল-লালে-লাল খুন মেখে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ রণ-ভিতুদের শান্তি-বাণী শুন্‌বে কে?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পিণ্ডারিদের খুন-রঙিন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নোখ-ভাঙা এই নীল সঙিন

তৈয়ার হেয়্ হর্দম ভাই ফাড়্‌তে যিগর্ শত্রুদের!

হিংসুক-দল! জোর তুলেছি শোধ্ তাদের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাবাস্ জোয়ান! সাবাস্!

ক্ষীণজীবি ঐ জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এম্‌নি করে রে–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এমনি জোরে রে–

ক্ষীণজীবি ঐ জীবগুলোকে পায়ের তলেই দাবাস্!–

ঐ চেয়ে দ্যাখ্ আসমানে আজ রক্ত-রবির আভাস!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাবাস্ জোয়ান! সাবাস্!!​​ 

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ [লেফট্! রাইট! লেফ্‌ট্]

 

হিংসুটে ঐ জীবগুলো ভাই নাম ডুবালে সৈনিকের,

তাই তারা আজ নেস্ত-নাবুদ,​​ আমরা মোটেই হইনি জের !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পরের মুলুক লুট করে খায় ডাকাত তারা ডাকাত !

তাই  ​​​​ তাদের তারে বরাদ্দ ভাই আঘাত শুধু আঘাত !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কি বলো ভাই শ্যাঙাত?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো ! !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দনুজ দলে দল্‌তে দাদা এম্‌নি দামাল কামাল চাই !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

হো হো  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

[হাবিলদার মেজর: রাইট্ হুইল্! লেফ‌্ট্ রাইট্! লেফ্‌ট্!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সৈন্যগণ ডানদিকে মোড় ফিরিল।]

 

আজাদ মানুষ বন্দী করে,​​ অধীন করে স্বাধীন দেশ,

কুল্ মুলুকের কুষ্টি করে জোর দেখালে ক'দিন বেশ,

মোদের হাতে তুর্কি-নাচন নাচ্‌লে তাধিন্ তাধিন্ শেষ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

বদ্‌-নসিবের বরাত খারাব বরাদ্দ তাই কর্‌লে কি না আল্লায়,

পিশাচগুলো পড়্‌ল এসে পেল্লায় এই পাগলাদেরই পাল্লায়!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এই  ​​ ​​​​ পাগলাদেরই পাল্লায়!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো–

ওদের  ​​ ​​ ​​​​ কল্লা দেখে আল্লা ডরায়,​​ হল্লা শুধু হল্লা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওদের  ​​ ​​​​ হল্লা শুধু হল্লা,

এক মুর্গির জোর গায়ে নেই,​​ ধর্‌তে আসেন তুর্কি-তাজি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মর্দ গাজি মোল্লা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হাঃ! হাঃ! হাঃ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হেসে  ​​​​ নাড়িই ছেড়ে বা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হা হা  ​​​​ হাঃ! হাঃ! হাঃ!

 

[হাবিলদার-মেজর-সাবাস সিপাই! লেফ্‌ট্ রাইট্! লেফ্‌ট্!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাবাস সিপাই! ফের বল ভাই!]

 

ঐ খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই!

অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

হো হো ​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

 

[হাবিলদার-মেজর;-​​ লেফ্‌ট্ হুইল্! য়্যাজ্‌ য়ু ওয়্যার্!- রাইট হুইল!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লেফ্‌ট্! রাইট! লেফট্‌!]

[সৈন্যদের আঁখির সামনে অস্ত-রবির আশ্চর্য রঙের খেলা ভাসিয়া উঠিল।]

 

দেখ্‌চ কি দোস্ত অমন করে?​​ হৌ হৌ হৌ!

সত্যি তো ভাই!– সন্ধেটা আজ দেখতে যেন সৈনিকেরই বৌ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শহীদ সেনার টুক্‌টুকে বৌ লাল-পিরাহান-পরা,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ স্বামীর খুনের ছোপ-দেওয়া,​​ তায় ডগডগে আন্‌কোরা!–

না না না,–কল্‌জে যেন টুকরো-করে-কাটা

হাজার তরুণ শহীদ বীরের,–শিউরে উঠে গা'টা!

আস্‌মানের ঐ সিং-দরজায় টাঙিয়েছে কোন্ কসাই!

দেখতে পেলে এক্ষুনি গে এই ছোরাটা কল্‌জেতে তার বসাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুণ্ডুটা তার খসাই!

গোস্বাতে আর পাইনে ভেবে কি যে করি দশাই!

 

[হাবিলদার-মেজর-সাবাস সিপাই! লেফ্‌ট্! রাইট্! লেফ্‌ট্!]

[ঢালু পার্বত্য পথ,​​ সৈন্যগণ বুকের পিঠের নিহত ও আহত সৈন্যদের ধরিয়া সন্তর্পণে নামিল।]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আহা কচি ভাইরা আমার রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এমন কাঁচা জানগুলো খান্‌ খান্‌ করেছে কোন্‌ সে চামার রে?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আহা কচি ভাইরা আমার রে! !

 

[সাম্‌নে উপত্যকা। হাবিলদার মেজর :– লেফ্‌ট্ ফর্ম! সৈন্য- বাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল! হাবিলদার মেজর :-ফর্‌ওয়ার্ড ! লেফ্‌ট্ ! রাইট্ ! লেফ্‌ট্ !]

 

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আস্‌মানের ঐ আঙরাখা

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ খুন-খারাবির রঙ মাখা

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কি খুবসুরৎ বাঃ রে বা !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জোর বাজা ভাই কাহারবা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হোক্ না ভাই এ কারবালা ময়দান–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমরা যে গাই সাচ্চারই জয়-গান !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হোক্ না এ তোর কার্‌বালা ময়দান ! !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো–

 

[সাম্‌নে উপত্যকা– হঠাৎ যেন পথ হারাইয়া ফেলিয়াছে। হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিতে লাগিল। হুকুম দিয়া গেল–​​ 'মার্ক্ টাইম্।'​​ সৈন্যরা এক স্থানেই দাঁড়াইয়া পা আছড়াইতে লাগিল–]

 

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দ্রাম্‌! দ্রাম্‍! দ্রাম!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লেফ্‌ট্! রাইট! লেফ্‌ট!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দ্রাম্‌! দ্রাম্! দ্রাম্!

আস্‌মানে ঐ ভাস্‌মান যে মস্ত দুটো রঙের তাল,

একটা নিবিড় নীল-সিয়া আর একটা খুবই গভীর লাল,–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বুঝ্‌লে ভাই! ঐ নীল সিয়াটা শত্রুদের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেখ্‌তে নারে কারুর ভালো,

তাইতে কালো রক্ত-ধারার বইছে শিরায় স্রোত ওদের।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গৃধ্নু ওরা,​​ লুব্ধ ওদের লক্ষ্য অসুর বল–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হিংস্র ওরা হিংস্র পশুর দল!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জালিম ওরা অত্যাচারী!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সার জেনেছে সত্য যাহা হত্যা তারই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জালিম ওরা অত্যাচারী!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সৈনিকের এই গৈরিকে ভাই–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জোর অপমান করলে ওরাই,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাই তো ওদের মুখ কালো আজ,​​ খুন যেন নীল জল!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওরা  ​​ ​​​​ হিংস্র পশুর দল!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওরা  ​​ ​​​​ হিংস্র পশুর দল!!

 

[হাবিলদার-মেজর পথ খুঁজিয়া ফিরিয়া অর্ডার দিল-ফর্‌ওয়ার্ড! লেফ্‌ট্ হুইল্–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সৈন্যগণ আবার চলিতে লাগিল-লেফ্‌ট্ রাইট্! লেফ্‌ট্!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাচ্চা ছিল সৈন্য যারা শহীদ হলো মরে।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তোদের মতন পিঠ ফেরেনি প্রাণটা হাতে করে,–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ওরা  ​​ ​​ ​​​​ শহীদ হলো মরে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পিট্‌নি খেয়ে পিঠ যে তোদের ঢিট হয়েছে! কেমন!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পৃষ্ঠে তোদের বর্শা বেঁধা,​​ বীর সে তোরা এমন!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুর্দারা সব যুদ্ধে আসিস্‌! যা যা!

খুন দেখেছিস্ বীরের?​​ হা দেখ্ টক্‌টকে লাল কেমন গরম তাজা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুর্দারা সব যা যা!!

 

[বলিয়াই কটিদেশ হইতে ছোরা খুলিয়া হাতের রক্ত লইয়া দেখাইল]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ত্রঁরাই বলেন হবেন রাজা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আরে যা যা! উচিত সাজা

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাই দিয়েছে শক্ত ছেলে কামাল ভাই!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ [হাবিলদার মেজর;-​​ সাবাস সিপাই!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এই তো চাই! এই তো চাই!

থাক্‌লে স্বাধীন সবাই আছি,​​ নেই তো নাই,​​ নেই তো নাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এই তো চাই!!

 

[কতকগুলি লোক অশ্রুপূর্ণ নয়নে এই দৃশ্য দেখিবার জন্য ছুটিয়া আসিতেছিল।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাহাদের দেখিয়া সৈন্যগণ আরও উত্তেজিত হইয়া উঠিল।]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মার্ দিয়া ভাই মার্ দিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দুশ্‌মন্ সব হার্ গিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কিল্লা ফতে হো দিয়া।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পর্‌ওয়া নেহি,​​ যা নে দো ভাই যো গিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কিল্লা ফতে হো গিয়া!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 

[হাবিলদার-মেজর;-সাবাস জোয়ান! লেফ্‌ট্! রাইট্!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জোর্‌সে চলো পা মিলিয়ে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গা হিলিয়ে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এম্‌নি করে হাত দুলিয়ে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দাদ্‌রা তালে​​ 'এক দুই তিন'​​ পা মিলিয়ে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঢেউএর মত যাই!

আজ  ​​​​ স্বাধীন এ দেশ! আজাদ মোরা বেহেশ্‌তও না চাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আর  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বেহেশ্‌তও না চাই!!

 

[হাবিলদার-মেজর:- সাবাস সিপাই! ফের বল ভাই!]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঐ খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল তাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল ! তু নে কামাল কিয়া ভাই !

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হো হো  ​​ ​​​​ কামাল ! তু নে কামাল কিয়া ভাই ! !

 

[সৈন্যদল এক নগরের পার্শ্ব দিয়া চলিতে লাগিল। নগর-বাসিনীরা ঝরকা হইতে মুখ বাড়াইয়া এই মহান দৃশ্য দেখিতেছিল;​​ তাহদের চোখ-মুখ আনন্দাশ্রুতে আপ্লুত। আজ বধূর মুখের বোরকা খসিয়া পড়িয়াছে। ফুল ছড়াইয়া হাত দুলাইয়া তাহারা বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতেছিল। সৈন্যগণ চীৎকার করিয়া উঠিল।]

 

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঐ শুনেছিস্‌?​​ ঝর্‌কাতে সব বল্‌ছে ডেকে বৌ-দলে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ 'কে বীর তুমি?​​ কে চলেছ চৌদলে?'

চিনিস্‌নে কি?​​ এমন বোকা বোনগুলি সব!– কামাল এ যে কামাল!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পাগলি মায়ের দামাল ছেলে! ভাই যে তোদের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তা না হলে কার হবে আর রৌশন্ এমন জামাল?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল এ যে কামাল!!

উড়িয়ে দেবো পুড়িয়ে দেবো ঘর-বাড়ি সব সামাল!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘর-বাড়ি সব সামাল!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আজ আমাদের খুন ছুটেছে,​​ হোশ টুটেছে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ডগ্‌মগিয়ে জোশ উঠেছে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাম্‌নে থেকে পালাও!

শোহরত দাও নওরাতি আজ! হর্‌ ঘরে দীপ জ্বালাও!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সাম্‌নে থেকে পালাও!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ যাও ঘরে দীপ জ্বালাও!!

 

[হাবিলদার-মেজর:- লেফ্‌ট্ ফর্ম্! লেফ্‌ট্! রাইট! লেফ্‌ট্!-ফরওয়ার্ড্!]

 

[বাহিনীর মুখ হঠাৎ বামদিকে ফিরিয়া গেল। পার্শ্বেই পরিখার সারি। পরিখা-ভর্তি নিহত সৈন্যের দল পচিতেছে এবং কতকগুলি অ-সামরিক নগরবাসী তাহা ডিঙাইয়া ডিঙাইয়া চলিতেছে।]

 ​​​​  

 

ইস্! দেখেছিস! ঐ কারা ভাই সাম্‌লে চলেন পা,

ফস্‌কে মরা আধ-মরাদের মাড়িয়ে ফেলেন বা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ও তাই শিউরে ওঠে গা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হাঃ হাঃ হাঃ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরল যে সে মরেই গেছে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বাঁচ্‌ল যারা রইল বেঁচে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এই তো জানি সোজা হিসাব! দুঃখ কি তার আঁ?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরায় দেখে ডরায় এরা! ভয় কি মরায়?​​ বাঃ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হাঃ হাঃ হাঃ!

 

[সম্মুখে সঙ্কীর্ণ ভগ্ন সেতু। হাবিলদার-মেজর অর্ডার দিল-'ফর্ম্ ইন্‌টু সিঙ্গল্‌ লাইন'। এক একজন করিয়া বুকের পিঠের নিহত ও আহত ভাইদের চাপিয়া ধরিয়া অতি সন্তর্পণে​​ 'স্লো মার্চ'​​ করিয়া পার হইতে লাগিল।]

 ​​​​  

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সত্যি কিন্তু ভাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ যখন মোদের বক্ষে-বাঁধা ভাইগুলির এই মুখের পানে চাই–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কেমন সে এক ব্যথায় তখন প্রাণটা কাঁদে যে সে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে যেন দুই বজ্র-হাতে চেপে ধরে কল্‌জেখানা পেষে!

নিজের হাজার ঘায়েল জখম ভুলে তখন ডুক্‌রে কেন কেঁদেও ফেলি শেষে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে যেন ভাই কল্‌জেখানা পেষে!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘুমোও পিঠে,​​ ঘুমোও বুকে,​​ ভাইটি আমার,​​ আহা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বুক যে ভরে হাহাকারে যতই তোরে সাব্বাস দিই,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ যতই বলি বাহা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ লক্ষ্মীমণি ভাইটি আমার,​​ আহা!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘুমোও ঘুমোও মরণ-পরের ভাইটি আমার,​​ আহা!!

অস্ত-পারের দেশ পারায়ে বহুৎ সে দূর তোদের ঘরের রাহা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘুমোও এখন ঘুমোও ঘুমোও ভাইটি ছোট আহা!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরণ-বধূর লাল রাঙা বর! ঘুমো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আহা,​​ এমন চাঁদমুখে তোর কেউ দিল না চুমো!

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হতভাগা রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ না জানি কোন্ ফুট্‌তে-চাওয়া মানুষ-কুঁড়ির হিয়ায়!

তরুণ জীবন এম্‌নি গেল,​​ একটি রাতও পেলিনে রে বুকে কোনো প্রিয়ায়!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অরুণ খুনের তরুণ শহীদ! হতভাগ্য রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরেও যে তুই দিয়ে গেলি বহুৎ দাগা রে!

তাই যত আজ লিখ্‌নে-ওয়ালা তোদের মরণ ফুর্তি-সে জোর লেখে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এক লাইনে দশ হাজারের মৃত্যু-কথা! হাসি রকম দেখে‍!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মরলে কুকুর ওদের,​​ ওরা শহীদ-গাথার বই লেখে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ খবর বেরোয় দৈনিকে,

আর  ​​​​ একটি কথায় দুঃখ জানান, 'জোর মরেছে দশটা হাজার সৈনিকে!'

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আঁখির পাতা ভিজল কি না কোনো কালো চোখের,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জান্‌ল না হায় এ-জীবনে ঐ সে তরুণ দশটি হাজার লোকের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পচে মরিস পরিখাতে,​​ মা-বোনেরাও শুনে বলে​​ 'বাহা'!

সৈনিকেরই সত্যিকারের ব্যথার ব্যথী কেউ কি রে নেই?​​ আহা!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আয় ভাই তোর বৌ এল ঐ সন্ধ্যা মেয়ে রক্ত-চেলি পরে,

আঁধার-শাড়ি পরবে এখন পশ্‌বে যে তোর গোরের বাসর-ঘরে!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ভাবতে নারি,​​ গোরের মাটি করবে মাটি এ মুখ কেমন করে–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সোনা মানিক ভাইটি আমার ওরে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিদায়-বেলায় আরেকটিবার দিয়ে যা ভাই চুমো!

অনাদরের ভাইটি আমার! মাটির মায়ের কোলে এবার ঘুমো!!

 

​​ [নিহত সৈন্যদের নামাইয়া রাখিয়া দিয়া সেতু পার হইয়া আবার জোরে মার্চ করিতে করিতে তাহাদের রক্ত গরম হইয়া উঠিল।]

 ​​​​  

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঠিক বলেছ দোস্ত তুমি!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চোস্ত কথা! আয় দেখি–তোর হস্ত চুমি!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মৃত্যু এরা জয় করেছে,​​ কান্না কিসের?

আব্-জম্-জম্ আনলে এরা,​​ আপনি পিয়ে কল্‌সি বিষের!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে মরেছে?​​ কান্না কিসের?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বেশ করেছে!

দেশ বাঁচাতে আপ্‌নারি জান শেষ করেছে!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বেশ করেছে!!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ শহীদ ওরাই শহীদ!

বীরের মতন প্রাণ দিয়েছে খুন ওদেরি লোহিত!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ শহীদ ওরাই শহীদ!!

 

[এইবার তাহাদের তাম্বু দেখা গেল। মহাবীর আনোয়ার পাশা বহু সৈন্যসামন্ত ও সৈনিকদের আত্মীয়-স্বজন লইয়া বিজয়ী বীরদের অভ্যর্থনা করিতে আসিতেছেন দেখিয়া সৈন্যগণ আনন্দে আত্মহারা হইয়া​​ 'ডবল মার্চ'​​ করিতে লাগিল]

 

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হু‌র্‌রো হো!!

ভাই-বেরাদর পালাও এখন! দূর্ রহো! দূর্ রহো!!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো! হুর্‌রো হো!

 

[কামাল পাশাকে কোলে করিয়া নাচিতে লাগিল]

 

 ​​ ​​ ​​​​ হৌ হৌ হৌ! কামাল জিতা রও!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল জিতা রও!

 ​​ ​​ ​​​​ ও কে আসে?​​ আনোয়ার ভাই?–

 ​​ ​​ ​​​​ আনোয়ার ভাই! জানোয়ার সব সাফ!!

 ​​ ​​ ​​​​ জোর নাচো ভাই! হর্দম্ দাও লাফ!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আজ জানোয়ার সব সাফ!

 ​​ ​​ ​​​​ হুর্‌রো হো! হুর্‌রো হো!!

সব-কুছ আব্ দূর্ রহো! – হুর্‌রো হো! হুর্‌রো হো!!

রণ জিতে জোর মন মেতেছে!-সালাম সবায় সালাম!–

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নাচ্‌না থামা রে!

জখ্‌মি ঘায়েল ভাইকে আগে আস্তে নামা রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নাচ্‌না থামা রে!–

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ [আহতদেরে নামাইতে নামাইতে]

 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে ভাই?​​ হাঁ হাঁ,​​ সালাম!

ঐ শোন্‌ শোন্‌ সিপাহ্‌-সালার কামাল ভাই-এর কামাল।

 

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ [সেনাপতির অর্ডার আসিল]

 

 ​​​​ 'সাবাস! থামো! হো! হো!

 ​​ ​​​​ সাবাস! হল্ট্! এক! দো!'

 

[এক নিমিষে সমস্ত কল-রোল নিস্তব্ধ হইয়া গেল। তখনো কি তারায় তারায় যেন ঐ বিজয় গীতির হারা-সুর বাজিয়া বাজিয়া ক্রমে ক্ষীণ হইতে ক্ষীণ হইয়া মিলিয়া গেল–]

 ​​​​  

 

ঐ খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই!

 ​​ ​​ ​​​​ অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই।

 ​​ ​​ ​​​​ হো হো,  ​​ ​​ ​​​​ কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!!

তু নে– তুমি।
কামাল কিয়া– অভাবনীয় কাণ্ড করলে, অসম্ভব করলে! [‘কামাল মানে কিন্তু পূর্ণ’]
শমশেরে– তরবারিকে।
বিল্‌কুল সাফ হো গিয়া– একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে।
খুব কিয়া–আচ্ছা করেছ। বুজদিল–ভীরু, কাপুরুষ।
পাঁও তক– পা পর্যন্ত।
নেস্ত-নাবুদ– ধ্বংস-বিধ্বংস
কুল মুলুক– সমস্ত দেশ।
আজাদ– মুক্ত
বদ্-নসিব– দুর্ভাগ্য
ত্যজি– যুদ্ধাশ্ব
পিরাহান– পিরান।
গোস্বা– ক্রোধ
খুবসরৎ– সুন্দর
সিয়া– কৃষ্ণবর্ণ।
জালিম– উৎপীড়ক
মুর্দা– মৃত
জামাল– রূপ।
জোশ– উত্তেজনা
শোহরত– ঘোষণা
নোরাতি– উৎসব-রাত্রি
ভাই-বেরাদর– আত্মীয়-স্বজন।
জিতা রও– বেঁচে থাক
আব্– এখন
জখ্‌মি – ঘায়েল, আহত।
সিপাহি-সালার – প্রধান সেনাপতি
কালাম– হুকুম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।