মিলের খিল খুলে গেছে!

কিলবিল করছিল,​​ কাঁচুমাচু হয়েছিল –

 ​​ ​​ ​​​​ কেঁচোর মতন –

পেটের পাঁকে কথার কাতুকুতু!

কথা কি ‘কথক’ নাচ নাচবে

 ​​ ​​ ​​​​ চৌতালে ধামারে?

তালতলা দিয়ে যেতে হলে

কথাকে যেতে হয় কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে

 ​​​​ তালের বাধাকে গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে!

 ​​​​ এই যাঃ! মিল হয়ে গেল!

 ​​​​ ও তাল-তলার কেরদানি – দুত্তোর!

মুরগিছানার চিলের মতন

টেকো মাথায় ঢিলের মতন

 ​​​​ পড়বে এইবার কথার বাণ্ডিল।

ছন্দ এবার কন্ধকাটা পাঁঠার মতন ছটফটাবে।

লটপটাবে লুচির লেচির আটার মতন!

অক্ষর আর যক্ষর টাকা গোনার মতো

 ​​​​ গুনতে হবে না –

 ​​​​ 

অঙ্কলক্ষ্মীর ভয়ে কাব্যলক্ষ্মী থাকতেন

 ​​ ​​​​ কুঁকড়োর মতন কুঁকড়ে!

ভাবতেন,​​ মিলের চিল কখন দেবে ঠুকরে!

 ​​ ​​​​ আবার মিল!–

 ​​​​ গঙ্গার দু-ধারে অনেক মিল,

কটন মিল,​​ জুট মিল,​​ পেপার মিল –

 ​​​​ মিলের অভাব কী?

কাব্যলোকে মিল থাকবে কেন?

ওকে ধুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দাও!

 ​​​​ ওখানেও যে মিল আছে!

ধুলো যদি কুলোয় যায় চুলোয় যায়,

হুলো ভুলোয় যদি ল্যাজে মাখে!

 ​​​​ ল্যাজ কেটে বেঁড়ে করে দেব!

 ​​​​ এঁড়ে দামড়া আছে যে!

আমার মিল আসছে! – মুশকিল আসান।

 

অঙ্কলক্ষ্মীকে মানা করেছিলাম,

 ​​ ​​ ​​​​ মিলের শাড়ি কিনতে।

অঙ্কলক্ষ্মীর জ্বালায় পঙ্কলক্ষ্মী পদ্ম

 ​​ ​​ ​​​​ আর ফোটে না!

 ​​​​ তা বলতে গেলে লঙ্কাকাণ্ড বেধে যাবে।

এ কবিতা যদি পড়ে

 ​​​​ গায়ে ধানি লংকা ঘষে দেবে! –

আজ যে বিনা প্রয়াসেই অনুপ্রাসের

 ​​ ​​ ​​​​ পাল পেয়েছি দেখছি!

মিল আসছে – যেন মিলানের মেলায়

 ​​ ​​ ​​​​ মেমের ভিড়!

 ​​​​ নাঃ! – কবিতা লিখি।

তাকে দেখেছিলাম – আমার মানসীকে

 ​​​​ ভেটকি মাছের মতো চেহারা!

আমাকে উড়ে বেহারা মনে করেছিল!

 ​​ ​​ ​​​​ শাড়ির সঙ্গে যেন তার আড়ি।

 ​​ ​​ ​​​​ কাঁখে হাঁড়ি – মাথায় ধামা।

 ​​ ​​ ​​​​ জামা ব্লাউজ শেমিজ পরে না।

দরকার বা কি?

 ​​ ​​ ​​​​ তরকারি বেচে!

 ​​​​ সরকারি ষাঁড়ের মতন নাদুস-নুদুস!

 ​​ ​​ ​​​​ চিচিঙ্গের মতন বেণি দুলছিল।

 

সে যে-দেশের,​​ সে-দেশে আঁচলের চল নাই!

 ​​ ​​ ​​​​ চলেন গজ-গমনে।

 ​​​​ পায়ে আলতা নাই,​​ চালতার রং।

 ​​ ​​ ​​​​ নাম বললে – ‘আজুলি’

 ​​​​ আমি বললাম – ‘ধ্যেৎ,​​ তুমি কাজলি।’

হাতে চুড়ি নাই,

 ​​​​ তুড়ি দেয় আর মুড়ি খায়।

 ​​​​ গলায় হার নাই,​​ ব্যাগ আছে।

পায়ে গোদ,

 ​​​​ আমি বলি, ‘প্যাগোডা’ সুন্দরী!

 ​​​​ গান গাই, ‘ওগো মরমিয়া!’

ও ভুল শোনে! ও গায় –

 ​​ ​​ ​​​​ ওগো বড়ো মিয়াঁ!’

 ​​​​ থাকত হাতে ‘এয়ার গান!’

ও গায় গেঁয়ো সুরে,​​ চাঁপা ফুল কেয়ার গান। –

দাঁতে মিশি,​​ মাঝে মাঝে পিসি বলতে ইচ্ছা করে।

ডাগর মেয়েরা আমাকে যে হাঙর ভাবে।

 ​​ ​​ ​​​​ হৃদয়ে বাঁকুড়ার দুর্ভিক্ষ!

 ​​​​ ভিক্ষা চাই না,​​ শিক্ষা দিয়ে দেবে।

 ​​​​ তাই ধরেছি রক্ষাকালীর চেড়িকে।

নেংটির আবার বকেয়া সেলাই!

 ​​​​ কবিতে লেখার মশলা পেলেই হল

 ​​​​ তা না-ই হল গরম মশলা। –

নাঃ,​​ ঘুম আসছে,

 ​​​​ রান্নাঘরের ধূম আসছে।

বউ বলে,​​ নাক বাজছে,

 ​​​​ না শাঁখ বাজছে।

আবার মিল আসছে –

 ​​​​ ঘুম আসছে –

দুম্বা ভেড়ার দুম আসছে!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।