আমার একটা মোটরগাড়ি চাই – নবারুণ ভট্টাচার্য

তিরিশ হাজার লোক ভাসছে
নোনা জলের ধাক্কায় তাদের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে
সেই জন্যে আমার একটা মোটরগাড়ি চাই।
লোড শেডিং-এ গলে যাচ্ছে বরফ রেফ্রিজারেটরে
মর্গের মধ্যে মড়ার চারপাশে বরফ গলছে
সবুজ টিকটিকির মতো সতর্ক থাকুন
বসন্ত আসছে
কিন্তু আমার একটা মোটরগাড়ি চাই।

পাখা বন্ধ করে দিয়েছি অসাড় নভেম্বরে
উইণ্টার প্যালেস এসে দখল করছে আমাকে
বেড়ে যাচ্ছে কোলেসটেরল, বমন, বুলেটের বরাদ্দ
মোমবাতি না থাকলে একটা হরিজনকে ধরে
জ্বালিয়ে দাও
তবুও আমার একটা মোটরগাড়ি চাই।

রেশমী সূর্যের প্যারাসুটে ঝুলে
একদিন ঈশ্বর নেমে আসবেন কলকাতায়
আমার, আমার বৌয়ের, আমার বাচ্চার মাথায়
এবং আরও যত হেঁটমুণ্ডু—ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন
সবের ওপরে ঝরবে ক্ষমার পারমাণবিক ভস্ম
ভাই, আমার একটা মোটরগাড়ি চাই।
কমরেড, আমার একটা মোটরগাড়ি চাই
সার, আমার একটা মোটরগাড়ি চাই
ঝকঝকে, রঙচঙে, ফাটাফাটি একটা মোটরগাড়ি।

এই মোটরগাড়ির চাকার তলাতেই
ঘিলু আর রক্ত ছিটিয়ে
অপেক্ষা করছে আমার নিয়তি ।

জন্ম : ১৯৪৮-এ, বহরমপুরে | বিজন ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান নবারুন ভট্টাচার্য | পড়াশোনা করেছেন কলকতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে এবং আশুতোষ কলেজে প্রথমে ভূতত্ত্ব নিয়ে ও পরে সিটি কলেজে ইংরেজী নিয়ে | ১৯৭৩-এ বিদেশি সংস্থায় যোগদান করে ১৯৯১ পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন |কিছুদিন বিষ্ণু দে-র ‘সাহিত্যপত্র’ সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে চালাচ্ছেন ‘ভাষাবন্ধন’ পত্রিকাটি | এর আগে দীর্ঘদিন ‘নবান্ন’ নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনা করেছেন | ১৯৬৮-তে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম ছোটগল্প ‘ভাসান’ | প্রথম কবিতার বই ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ ১৯৭২ এবং প্রথম উপন্যাস ‘হারবার্ট’ (পত্রিকায়প্রকাশ: ১৯৯২)| প্রথম উপন্যাস ‘হারবার্ট’ এর জন্য নবারুন নরসিংহ দাস (১৯৯৪), বঙ্কিম(১৯৯৬) ও সাহিত্য আকাদেমি(১৯৯৭) পুরুস্কার পেয়েছেন | কাঙাল মালসাট, অটো ও ভোগী, হালাল ঝান্ডা ও অন্যান্য, মহাজানের অন্য, ফ্যাতাড়ুর বোম্বাচক, মসোলিয়ম, রাতের সার্কাস, খেলনানগর, ইত্যাদি । ১লা আগস্ট ২০১৪ এই মহান আজীবন বামপন্থী কবি মাত্র ৬৬ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন । অগ্নাশ্যয়ের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি ।

দয়া করে মন্তব্য করুন

দয়া করে মন্তব্য করুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন